ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও দেশটির অন্যান্য শহরে লক্ষ্যভিত্তিক পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের কিয়েভসহ ইউক্রেন ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।শনিবার এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ার বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোতে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ চালানোর জবাবে কিয়েভ ও ইউক্রেনের অন্যান্য শহরে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে।রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশি নাগরিকদের, বিশেষ করে কূটনৈতিক মিশনের কর্মীদের, ইউক্রেনে অবস্থান না করার এবং দেশটিতে ভ্রমণ না করার জন্য আবারও সতর্ক করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সতর্কতা উপেক্ষা করে কেউ ইউক্রেনে থাকলে পরবর্তী কোনো ধরনের ক্ষতিকর পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ী থাকবে।সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে রুশ হামলা বেড়েছে। শনিবার ডিনিপ্রো নদীর ওপর একটি সেতুতেও বিমান হামলা চালানো হয়। এর আগে শুক্রবার জেটচালিত ড্রোনের হামলায় কিয়েভের সাউদার্ন ব্রিজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় ৩০ লাখ মানুষের শহর কিয়েভে রুশ হামলা বাড়তে থাকায় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। সামনে শীতকাল থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চলতি সপ্তাহে বলেছেন, রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের হামলার জন্য ইউক্রেনকে মূল্য দিতে হচ্ছে। রুশ বাহিনী বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই একে অপরের শস্যবাহী জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে। একই সময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য স্থাপনাও ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। রাশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন বলে রাশিয়া দাবি করেছে।
তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই বেসামরিক মানুষ বা বেসামরিক অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স

