(এক)
ঘুম
মন দিয়ে শোনো! আমার আত্ম-কথার যতো অন্তর্গত ভুল,
সব থেকে যাবে, স্বপ্ন ছেড়ে যাবে, দুঃস্বপ্ন ছেড়ে যাবে,
কিন্তু তুমি যাবে না।
পাখিরাও যাবে। তাদের বিষণ্ণতা রয়ে যাবে বৃক্ষে, বৃক্ষে।
তুমি আমার ছেড়ে যাওয়া স্বপ্ন, তুমি আমার বড় একটি পাপ
তোমাকে আমি ঘন অন্ধকারে জমা রেখেছি,
অন্ধকারকে আলোকিত করার শক্তি শুধু তোমারই আছে।
অন্ধকারের দেয়ালে তুমি যা লিখেছো—-আমি এক নির্মম
সব মুছে দিয়েছি।
এমন নিষ্ঠুরতা কেউ দেখাতে পারে?
তোমার ঘৃণা এবং অপমান আমাকে কুঞ্চিত করেছে,
আবার চৈত্রের এক বিষণ্ন প্রহরে আলতো করে ছুঁয়ে দিলে যেন
এক বরফের চাঁই গলে গলে জমিনে পড়েছি।
কুড়িয়ে নাও——
আঁচল ভরে কুড়িয়ে নাও —-গলে যাওয়া এইসব ফুল্লবরফ।
(দুই)
রূঢ় একটি পাথরের প্রতি
এক এক করে মুছে যাবে সব, কে থাকবে আর কে থাকবে না
সে শুধু সময়ই বলে দেবে।
কোনটি সত্য কোনটি মিথ্যা! তুমিও জানো এবং তুমি
এও জানো—-মিথ্যার জাল বিছিয়ে বেশ নিরাপদেই আছো।
চতুরতা একটি অসৎ কর্ম, চতুর প্রতারককে মানুষ পছন্দ
করে না, তোমাকেও না।
তুমি জানো তুমি এক বহুরূপী প্রতারক, পৃথিবীর প্রতারক,
ধরণী! দ্বিধা হও, আমি তোমাতে আশ্রয় নিই।
পৃথিবীতে সত্য নেই ভেবে——ডুবে আছি অসত্য সমুদ্রে।
বুঝি পৃথিবীর যাবতীয় সবুজ একটি পাথরে
পরিণত হয়ে রয়েছে।
আমি সেই পাথরপাহাড়ে বসে অপেক্ষা করছি,
হয়তো কোনো একদিন এক অপরূপ সত্য উজ্জীবিত হবে
এই পাথরের থেকে।
এরূপ জয়ের কোনো স্থায়িত্ব নেই।এরূপ জয় পৃথিবীর হৃদয় থেকে
মুছে যায় এবং পৃথিবীও জানে একজন বেঈমান শুধু
অধর্ম পালনেই নিজেকে উৎসর্গ করে থাকে,
পৃথিবীর কথা, মানুষের কথা——সে—-কখনই ভাবে না,
সখি! তুমি এক এরূপ রুদ্ধ সময়ে এখনো পেলব রয়েছো?
তুমি কী শ্রদ্ধা করতে পেরেছো তাকে!
এমন দুর্ভাগার জন্য আমার কোনো প্রার্থনা নেই। ভালো থেকো কুসুম,
ভালো থেকো পলাশ-অর্কেডিয়া, যেন কোনো প্রতারণা তোমাদের
স্পর্শ না-করে কখনো।
(তিন)
বৃক্ষ
আমার ভেতরে একটি বৃক্ষ ছিলো, সতেজ ও সবুজ বৃক্ষ।
বৃক্ষটি ধীরে ধীরে সবুজতা হারিয়ে অসাড় এক
কঙ্কালে পরিণত হয়েছে
‘আমাকে বাঁচাও’ বৃক্ষের এই আর্তি মানুষ গ্রহণ করে না,
শুধু একটি মাত্র বৃক্ষ নিয়ে চিন্তা করারও
সূযোগ থাকে না কারো।
মানুষ বিশ্বাস করে যে বৃক্ষটির একটি সফল অস্তিত্ব ছিলো,
লোকেরা এও লক্ষ্য করে যে বৃক্ষটির পাতায় পাতায়
ছিলো স্নেহ-মমতা।
সেই সাথে পাখিদের ফেলে যাওয়া পালক-প্রীতি
মানুষের ভেতর এখনো সেই বৃক্ষ বেদনা বিদ্যমান।
মানুষের ঘৃণা রয়েছে মৃত্যুর প্রতি, দ্বিধাগ্রস্ত মানুষের প্রতি।
স্বেদ ও শিশির নিবেদন এখনো অব্যাহত,
মানুষ এখনো লক্ষ্য করে যে পাতাদের শিরায় শিরায়
ঘৃণার দাগ। বজ্রচেরা——কতো শতো দুঃখের ছাপ।
লেখক:আব্দুর রাজ্জাক

