পবিপ্রবি প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও বায়োইকোনমি বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগ এবং প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্রন্টিয়ার রিসার্চ ফর আ ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড বায়োইকোনমি’ শীর্ষক এ সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও কৃষি-গবেষণা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। কী-নোট বক্তা ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক এবং গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তফাজ্জল ইসলাম। বিশেষ বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা দেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিরি) আঞ্চলিক কার্যালয়, বরিশালের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মো. আশিক ইকবাল খান। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জহিরুল হক।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেনেটিক্স অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান এবং প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রুবেল মাহমুদ।
কী-নোট বক্তা অধ্যাপক ড. তফাজ্জল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক কৃষি জৈবপ্রযুক্তি, জিনোম এডিটিং এবং বায়োইকোনমিভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। এসব প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল করে গড়ে তোলা সম্ভব।
অপরদিকে ড. মো. আশিক ইকবাল খান তাঁর উপস্থাপনায় ধানের ব্লাস্ট রোগের সর্বশেষ গবেষণা, রোগ প্রতিরোধ কৌশল এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি উন্নয়ন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক বায়োইকোনমি গড়ে তুলতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের সেমিনার দেশের কৃষি গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেও তারা মত দেন।

