পবিপ্রবি প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ধান ফসলের শারীরবৃত্তীয় পর্যায়, বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও কৃষি বিনিয়োগসংক্রান্ত জরিপ তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধকরণ ও যাচাই বিষয়ক আন্তর্জাতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেপাল ও ভারতীয় গবেষণা প্রতিনিধি দলের সাথে, এতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালা ১৭ আগস্ট সকাল ১০টায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে শুরু হয়। “কৃষকদের ঝুঁকি হ্রাসের জন্য দূর অনুধাবনভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে ধান ফসলে চরম জলবায়ুজনিত ঘটনাগুলোর কারণে ক্ষতি ও লোকসান নিরূপণ” (সিআরআরপি-২০২৩-০৫-এমওয়াই-মিশ্রা) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়। এশিয়া-প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ফর গ্লোবাল চেঞ্জ রিসার্চ (এপিএন)-এর অর্থায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে ১৮ আগস্ট মাঠপর্যায়ে ফিল্ড ভিজিট অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রকল্পের অধীনে প্রস্তুতকৃত প্রথম গবেষণাপত্র একটি স্কুপাস-ইনডেক্সড (কিউ-ওয়ান) জার্নালে জমা দেয়া হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু জোফার মো. মোসলেউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালের সায়েন্স হাবে’র ড. ভোগেন্দ্র মিশ্রা, ভারতের আইআইটি’র ড. মহুয়া মুখার্জি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ ও শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম জুলফিকার রহমান এবং মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়াসহ প্রমুখ।
কর্মশালায় পবিপ্রবি’র আন্ডারগ্র্যাজুয়েট-পর্যায়ে পরিচালিত ইন্টার্নশিপ ও রিসার্চ গবেষকদের সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. মোঃ সামসুজ্জোহা কৃষি দূর অনুধাবন কৌশল (এগ্রিকালচার রিমোট সেন্সিং) বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে অংশ নিয়েছেন। পবিপ্রবির দুইজন শিক্ষার্থী গবেষক শ্রেয়া সাহা ও আলী আজগর ইমন উক্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে তাদের গবেষণা প্রবন্ধ ও প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের ধান ফসলের বৃদ্ধি ও বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়, বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এবং কৃষি খাতে বিনিয়োগসংক্রান্ত জরিপ তথ্যভান্ডার পর্যালোচনা, সমৃদ্ধকরণ ও যাচাই করা। আলোচনার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের গুণগত মান, নির্ভুলতা ও পূর্ণতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামত যুক্ত করে তথ্যভান্ডারটিকে আরও নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে এই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম জলবায়ুজনিত ঘটনায় বাংলাদেশের ধান উৎপাদনে সৃষ্ট ক্ষতি ও লোকসানের পরিমাণ বিশ্লেষণ ও নিরূপণ করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের জলবায়ুজনিত ঝুঁকি কমানো এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে প্রয়োজনীয় তথ্য ও গবেষণাভিত্তিক সহায়তা পাওয়া যাবে।

