ইবি প্রতিনিধি :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাংলা ও ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। পরে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে করেন আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনহা ভবনের করিডোরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আহত শিক্ষার্থী আবু সাইদসহ বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়াগামী গোধূলী বাসে বাংলা বিভাগের হৃদয় ও আইসিটি বিভাগের আবু সাইদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরদিন বুধবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রক্টোরিয়াল বডি, ছাত্র উপদেষ্টা, বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক জরুরি সভা হয়। পরে সভা শেষে প্রক্টর অফিসের বাহিরে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের হামলায় আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম ও ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাইদ গুরুতর আহত হন৷
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিচার, স্থায়ী বহিষ্কার, নিরপরাধ ব্যক্তিদের না জড়ানোসহ বিভিন্ন দাবি জানান।
সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলা বিভাগের তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা হলেন– ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মেহেদী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আব্দুর রউফ ও মোসাব্বির হোসেন। এছাড়া, অধিকতর তদন্তপূর্বক ঘটনার কারণ উদঘাটন, দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ ও শাস্তির ধরন নির্ধারণসহ সুপারিশ পেশ করার জন্য খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা আমাদের উপর অতর্কিতভাবে পরিকল্পিত হামলা করেছে। এতে করে আমাদের শিক্ষকরাসহ অনেকেই আহত হন। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। তারা দাবি জানিয়ে আরও বলেন, যাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং যাদেরকে এখনো চিহ্নিত করা হয়নি, তাদের সবাইকে সুষ্ঠু বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এটাই আমাদের একমাত্র দাবি। আর যদি এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তাহলে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে সাথে নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি পালন করবে। দাবি আদায় নাহলে আমরা আমরণ অনশন ধর্মঘট পালন করব।”
আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাইদ বলেন, ‘গতকালকে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ আমরা প্রক্টর অফিসে সমাধানের জন্য গিয়েছিলাম। দুই পক্ষের যুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা সমাধান করে দেন। মিটিং শেষে অফিস থেকে বের হওয়ার সময় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের শিক্ষকদের শরীরেও হাত তোলে। এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া তৃতীয় পক্ষের কোনো ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় না আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
/কানিজ/সৈকত

