কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ ধীরগতির করার বিষয়ে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইর এক প্রস্তাব মার্কিন-চীন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি নেতারা এ প্রস্তাব সমর্থন করলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে তা বাস্তবায়নে বড় বাধা তৈরি হয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআইয়ের গতি কমানোর প্রস্তাব সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিষয়টিকে চীনের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখে তিনি বলেন, যে এআই জিতবে, সে-ই পুরো বিশ্ব জয় করবে।আমোদেই নিজেও স্বীকার করেছেন, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও শক্ত তদারকি ছাড়া একা যুক্তরাষ্ট্র গতি কমালে চীন প্রযুক্তিগত সুবিধা পেয়ে যাবে। অন্যদিকে বেইজিং একে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ধরে রাখার সহিংস প্রতিযোগিতা ও নীরব স্নায়ুযুদ্ধ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও ডিপসিক ও মুনশট এআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত প্রযুক্তির ব্যবধান কমিয়ে আনছে।
দুই বছরের লাগামহীন বিনিয়োগের পর এআই বাজার এখন এক বড় পরীক্ষার মুখে। অর্থনীতিবিদ জন হিগিন্স ও বিনিয়োগকারী মাইকেল বুরি সতর্ক করেছেন, এআই খাতের এই জোয়ার একটি বড় অর্থনৈতিক বাবল বা বুদ্বুদ, যা ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।বাজারজুড়ে এআই ক্লান্তি ছড়িয়ে পড়ছে, যা প্রযুক্তি শেয়ারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অবশ্য ডয়েচে ব্যাংক ও সেলসফোর্সের মতে, এই প্রতিযোগিতা থামার নয়। গতি কিছুটা কমলে প্রযুক্তির ত্রুটি শুধরে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকে এআই ব্যবস্থাপনা অন্যতম এজেন্ডা হতে পারে। তবে প্রযুক্তিগত সুবিধা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে এর অনিয়ন্ত্রিত ঝুঁকি ঠেকানো; এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়ের জন্যই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

