ইউরোপের সেরা রেলস্টেশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত যাত্রীসেবা, সময়ানুবর্তিতা, স্থাপত্যশৈলী ও সৌন্দর্যকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। সেই বিচারে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ এইচবিএফ ইউরোপের সেরা রেলস্টেশনের তালিকায় শীর্ষে স্থান পেয়েছে। তবে জার্মানির রেলস্টেশনগুলোর অবস্থান ক্রমেই নামছে নিচের দিকে। ২০২৬ সালের ইউরোপিয়ান রেলওয়ে স্টেশন ইনডেক্সে এমন চিত্র উঠে এসেছে।কনজিউমার চয়েস সেন্টারের প্রকাশিত সূচকে ইউরোপের ব্যস্ততম ৬০টি রেলস্টেশনকে বিভিন্ন মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ট্রেন বিলম্বের হার, গড়ে অপেক্ষার সময়, স্টেশনের বিভিন্ন সেবা, যাত্রীদের জন্য সহজপ্রবেশ্যতা, বিনা মূল্যের ওয়াই-ফাই, স্থানীয় ও জাতীয় রেল যোগাযোগ এবং টিকিটের ধরন।তালিকায় প্রথম হয়েছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ এইচবিএফ। স্টেশনটির মাত্র ৪ শতাংশ ট্রেন বিলম্বে ছেড়ে যায়। দেশটির বার্ন এইচবিএফ যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে রয়েছে, সেখানে বিলম্বের হার ১ দশমিক ৮ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে ১৪তম স্থানে থাকা লুজার্ন এইচবিএফ সবচেয়ে সময়নিষ্ঠ স্টেশনগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হয়, সেখানে মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ ট্রেন বিলম্বিত হয়।
সুইজারল্যান্ডের জাতীয় পর্যায়ে ট্রেন সময়মতো চলার হার ৯৪ দশমিক ১ শতাংশ। এ বিচারে দেশটিকে ইউরোপে রেল পরিবহনের মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে কনজিউমার চয়েস সেন্টার।
অন্যদিকে জার্মানির রেলব্যবস্থার অবস্থান আগের সূচকের তুলনায় আরও খারাপ অবস্থানে নেমে এসেছে। তালিকার নিচের সারির দিক থেকে ৩০টি স্টেশনের মধ্যে ১৫টিই জার্মানির। জার্মানির হয়ে সব চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা বার্লিন এইচবিএফ রেলস্টেশন জায়গা পেয়েছে ১৮তম স্থানে। স্টেশনটির ৬১ দশমিক ১ শতাংশ ট্রেন বিলম্বে ছাড়ে এবং যা গড়ে প্রায় ২০ মিনিট।
ইউরোপের ৬০টি স্টেশনে যেখানে গড়ে ২৯ শতাংশ ট্রেন বিলম্বে ছাড়ে, সেখানে জার্মানিতে এই হার প্রায় দ্বিগুণ অর্থাৎ ৪৯.৪ শতাংশ। একইভাবে, পুরো ইউরোপে ট্রেন বিলম্বের গড় অপেক্ষার সময় ৮.০৬ মিনিট হলেও, জার্মানিতে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয় প্রায় দ্বিগুণ সময় অর্থাৎ ১৪.৭৪ মিনিট।
যাত্রীসংখ্যা বাড়ায় এবারের তালিকায় নতুন করে ইউরোপের ১০টি স্টেশন যুক্ত হয়েছে। নতুন স্টেশনগুলোর মধ্যে শীর্ষ ৫টির মধ্যে দুটি পোল্যান্ডের, সে দুটি হলো ক্রাকভ গ্লোভনি (৯ম) এবং পোজনান গ্লোভনি (১৩তম)।
২০২৬ সালে ইউরোপের সেরা ১০ রেলস্টেশন
১. জুরিখ এইচবিএফ, সুইজারল্যান্ড
২. গার দ্য নর, প্যারিস, ফ্রান্স
৩. আমস্টারডাম সেন্ট্রাল, নেদারল্যান্ডস
৪. রক্লভ গ্লোভনি, পোল্যান্ড
৫. বার্ন এইচবিএফ, সুইজারল্যান্ড
৬. গার মনপারনাস, প্যারিস, ফ্রান্স
৭. গার সাঁ-লাজার, প্যারিস, ফ্রান্স
৮. লন্ডন ব্রিজ, যুক্তরাজ্য
৯. ক্রাকভ গ্লোভনি, পোল্যান্ড
১০. লন্ডন সেন্ট প্যানক্রাস ইন্টারন্যাশনাল, যুক্তরাজ্য
সূত্র: ইউরো নিউজ

