etcnews
ঢাকাWednesday , 17 June 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি

বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেতা হয়েও বহাল এমডি ওয়াহিদুল অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সরব হওয়ায় বদলির খড়গ রূপালী ব্যাংকে

etcnews
June 17, 2026 10:37 am
Link Copied!

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) চেয়ারে বসে আছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। এমনকি তিনি জুলাই হত্যা হামলার একজন আসামিও। ২০২৫ সালের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে মামলাটি দায়ের করা হয়। এ মামলার প্রথম দিকের আসামিদের তালিকায় আছেন শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজিব ওয়াজেদ জয় ও আসাদুজ্জামান খান। তালিকার ৪৫ নম্বরে রয়েছে রূপালী ব্যাংকের বর্তমান এমডি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের আমলের মতো তিনি এখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তার বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদেরকেই তাৎক্ষণিক বদলি করে ঢাকার বাইরে পাঠিয়ে দেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক বৈষম্য ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পরপরই তিনজন কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে।

বদলি হওয়া নেতারা হলেন- সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. গোলাম সারোয়ারকে ফরিদপুরে বদলি করা হয়েছে; সহকারী মহাব্যবস্থাপক এ এস এম নিয়াজ মোর্শেদকে ময়মনসিংহে এবং সহকারী মহাব্যবস্থাপক মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে কুমিল্লায় বদলি করা হয়েছে। তারা তিনজনই জিয়া পরিষদের রূপালী ব্যাংক শাখার শীর্ষ নেতা বলে জানা গেছে।

তাদের অভিযোগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া ওই স্মারকলিপি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদেরকে তাৎক্ষণিক বদলির আদেশ জারি করে। মোট ১১ জন কর্মকর্তার বদলির আদেশে অন্যদের অবমুক্তির (রিলিজ) সময়সীমা ১৮ জুন উল্লেখ করা হলেও, এই তিনজন অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, একই আদেশে সহকারী মহাব্যবস্থাপক মীর আবু নাসের জয়কে ঢাকার মতিঝিল করপোরেট শাখায় বদলি করে আনা হয়েছে বলে। তবে অভিযোগ উঠেছে, মীর আবু নাসের জয় আওয়ামী লীগপন্থী সংগঠন ‘স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ’-এর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক। এমডি তার আওয়ামী লীগপন্থী সার্কেল বৃদ্ধি করতেই তাকে মতিঝিল করপোরেট শাখা নিয়ে এসেছে।

এর আগে গত ৪ জুন রূপালী ব্যাংক জিয়া পরিষদের নেতারা অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। সেখানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব, ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করা হয়।

স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, ‘খারাপ ব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও দুর্নীতির’ কারণে ব্যাংকটি প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এ ছাড়া রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি ও ক্রীড়া কার্যক্রমের নামে তহবিলের অপব্যবহার, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পদোন্নতি ও পদায়ন এবং সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতাকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি করার অভিযোগও আনা হয়।
সংগঠনটির আরও দাবি, বর্তমান এমডি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও বিএনপি ঘরানার আদর্শের সাথে যুক্ত কর্মকর্তারা বদলি, পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং নানামুখী হুমকির শিকার হচ্ছেন।

জিয়া পরিষদের নেতারা ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের অবিলম্বে অপসারণ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ব্যাংক প্রশাসনের পুনর্গঠন, ব্যাংকিং খাত থেকে ‘ফ্যাসিবাদী প্রভাব’ দূর করা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের উপযুক্ত পদে পদায়ন করা।

সংগঠনটির অভিযোগ, স্মারকলিপি প্রদান এবং তা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সম্পূর্ণ প্রতিশোধমূলকভাবে এই সামপ্রতিক বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে।

অপরদিকে গত ১৬ মে তারা প্রধানমন্ত্রী বরাবরও কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের একটা অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে তারা উল্লেখ করেছেন, রূপালী ব্যাংক একটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক। ব্যাংকটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকে ক্রান্তিকাল চলমান ছিল। এই সময়ে তিনজন এমডি যেমন এম. ফরিদ উদ্দন, আতাউর রহমান প্রধান ও ওবায়দুল্লাহ আল মাসুদ ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনজনই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। বর্তমানে ওবায়দুল্লাহ আল মাসুদ দুর্নীতির দায়ে কারাভোগ করছেন। অন্যান্য দুইজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ থাকলেও কোনো বিশেষ কারণে এখনও তারা সাজা ভোগ করেন নি। অথচ এই দুইজনই ব্যাংকে ভুয়া ঋণ, ভুয়া আয় ও ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ লোকবল নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে দুর্বল ব্যাংকে পরিণত করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান এমডি কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম ও চেয়ারম্যান নজরুল হুদা (আওয়ামী সরকারের সময়ে ডেপুটি গভর্নর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড অব ডিরেক্টর ছিলেন) পারস্পরিক সহযোগিতায় ব্যাংকে অবৈধ পদোন্নতি প্রদান করে ব্যাংকের সাংগঠনিক কাঠামোকে দুর্বল করে আসছেন। ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা ছাড়া অবৈধ নিয়োগের প্রমাণ ও সাম্প্রতিক সময়ে দুরাবস্থায় থাকা ব্যাংকে বিপুল সংখ্যক অযোগ্য পদোন্নতি দিয়েছে।

২০১০ থেকে ২০১৯ সালে অর্থাৎ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার থাকাবস্থায় ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার, অফিসার, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল, মেকানিক্যাল ও আর্কিটেক্ট), সিনিয়র অফিসার (আইটি) ও বিভিন্ন গ্রেড অর্থাৎ জুনিয়র অফিসার, মার্কেটিং অফিসার, সহকারী অফিসার (গ্রেড-১ ও গ্রেড-২) নামে নতুন পদ সৃষ্টি করে অবৈধ নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সিনিয়র অফিসার, অফিসার, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল, মেকানিক্যাল ও আর্কিটেক্ট), সিনিয়র অফিসার (আইটি) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকুরি নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশ পত্র, মূল্যায়ন খাতা, ভাইভা পরীক্ষার নম্বরপত্র চাকরিপ্রাপ্ত সকলের ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষিত নাই। তার মানে যারা অবৈধভাবে চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের সুকৌশলে বৈধতা দেয়ার জন্য এসব নথি গায়েব করেছেন। এক্ষেত্রে প্রকৃত নিযোগপ্রাপ্তদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এই নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে অবৈধ নিয়োগের একটি বিষয় তদন্তনাধীন রয়েছে। এছাড়া অনেক অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্তদের সার্টিফিকেট জাল ও ভুয়া রয়েছে। বিশেষ করে ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত যত আইটি অফিসার ও সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল, মেকানিক্যাল ও আর্কিটেক্ট) নিয়োগ দেয়া হয়েছে সেখানে নিয়োগ পরীক্ষার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সনদপত্রসহ সবই অবৈধ।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে কাজী মো: ওয়াহিদুল ইসলাম রূপালী ব্যাংকে এমডি হিসেবে যোগদান করেন। ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারিতে কমিটিতে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ রূপালী ব্যাংক শাখার সিনিয়র সহসভাপতি পদে ছিলেন ওয়াহিদুল। জুলাই গণহত্যায় তার নামে রমনা থানায় মামলা রয়েছে। তিনি জুলাই গণহত্যায় অর্থ জোগানদাতা হিসেবে ঐ মামলায় উল্লেখ রয়েছে। মামলায় নাম থাকাসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় তার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ২০২৪ সালে অনুমোদিত ব্যাংকের সাংগঠনিক কাঠামো পরিমার্জন করে অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের সাংগঠনিক কাঠামোর অনুমোদন দেয়। উক্ত সাংগঠনিক কাঠামোতে পদন্নোতির ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের জন্য ৪০%, ২০২৬ সালের জন্য ৩০% ও ২০২৭ সালের জন্য ৩০% বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু ব্যাংকের এমডি কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম ২০২৫ সালে অনুমোদিত উক্ত সাংগঠনিক কাঠামোর নির্দেশনা অমান্য করে অর্থাৎ ২০১৫ সালের জন্য বরাদ্দ পদোন্নতি সংখ্যার চেয়ে তিন গুন বেশি পদোন্নতি দিয়েছেন। তিনি মোট ১৬২০ জনকে পদোন্নতি দিয়েছেন। এতে ২০২৬ ও ২০২৭সালের জন্য পদোন্নতি প্রত্যাশীরা বঞ্চিত হবেন।

অভিযোগে বলা হয়,অনিয়মের কোনো বিচার না হওয়ায় তিনি এই ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন। অন্যান্য ব্যাংকে আইটি অফিসর এত সংখ্যক নাই। আমাদের ব্যাংকে আইটির জনবল বেশি। তাদের বিভিন্ন সময় অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া হয়া। ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা আাইটি জনবলের মাধ্যমে টেম্পারিং করা হচ্ছে। আইটি জনবল নিয়োগে ক্ষমতা না থাকায় প্রকৃত আইটি অভিজ্ঞদের পদোন্নতি বঞ্চিত করা হচ্ছে। একইসাথে বেশি পদোন্নতি দেয়ায় পরবর্তী বছরের পদোন্নতি প্রত্যাশীরাও বঞ্চিত হয় এবং সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়। ব্যাংকের সংগঠন কাঠামা অনেক দুর্বল হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই। বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ দেশের অন্যান্য তদন্ত সংস্থা, টিআইবি ও বেসরকারি একটি নির্ভরযোগ্য তদন্ত দল দিয়ে তদন্ত করলে অনেক তথ্য জাতির সামনে তুলে আনা সম্ভব হবে।

এতে আরো বলা হয়, ব্যাংকের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগে এখন যারা কর্মরত আছেন তারা এমডির ঘনিষ্ঠ। ২০১০ থেকে এ পর্যন্ত অনেকেই দীর্ঘদিন প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগে কর্মরত থেকে নিয়োগ ও পদোন্নতির সাথে অনৈতিক কাজ করছেন। বর্তমানে উক্ত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসাবে মনোয়ারা বেগম কর্মরত আছেন, যিনি ব্যাংকের কর্পোরেট শাখা, ঢাকায় তহবিল তছরুপের দায়ে অভিযুক্ত আছেন।

অভিযোগে তারা বলেন, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি যে, এই বিষয়গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হোক। বর্তমান এমডি কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম বিভিন্নভাবে ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন। তিনি বলে বেড়ান তার সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তার এলাকার, দুর্নীতি দমন কমিশনে তার লোক আছে। আমরা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

এ বিষয়ে জানতে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত নাম্বারে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এজন্য তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।