স্পেনের সঙ্গে অভিবাসন সমস্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ। তার দাবি, অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে মরক্কোর প্রচেষ্টা সুনির্দিষ্ট ফল দিলেও বারবার সংকট তৈরি হওয়ায় বর্তমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দেশটির পার্লামেন্টের অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় স্পেনের কিছু আদালতের রায়কে ‘সেকেলে’ ও ‘অবাস্তব’ বলে সমালোচনা করেন মরক্কোর রাজা। তার মতে, এসব সিদ্ধান্ত অভিবাসন বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ বলেন, এসব সিদ্ধান্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের এবং ভুয়া আশ্রয়প্রার্থীদের প্রত্যাবাসনে বাধা দিচ্ছে, পাশাপাশি অপরাধী চক্রগুলোর লোভ বাড়িয়ে তুলছে।
গত জুলাইয়ে মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় অন্তত ৭০ হাজার মানুষ প্রবেশ করেন। তাদের বেশির ভাগই ফিরে গেলেও অপ্রাপ্তবয়স্কসহ কয়েক হাজার মানুষ সেখানে থেকে যান।
এই ঘটনার পর স্পেনের বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের সমালোচনা করে। পাশাপাশি তাদের অভিযোগ, মরক্কো অভিবাসীদের সীমান্ত অতিক্রমে সহায়তা করেছে।
তবে মরক্কো এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য এবং সমুদ্রপথে আগমনসংক্রান্ত একটি আদালতের রায়ের ভুল ব্যাখ্যার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওই রায়কে অনেকে এমন একটি আইনি সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন, যার মাধ্যমে সমুদ্রপথে স্পেনে প্রবেশ সহজ হতে পারে।
রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ বলেন, স্পেনের সঙ্গে অংশীদারত্ব মরক্কোর একটি ‘সার্বভৌম সিদ্ধান্ত’। কোনো চাপ, হুমকি বা ব্ল্যাকমেইলের মুখে এই সম্পর্ক পরিচালিত হবে না বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মরক্কো তার অংশীদারদের সামনে এমন একটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবে, যার মূল ভিত্তি হবে যৌথ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা।
২০২২ সালে পশ্চিম সাহারা নিয়ে মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে স্পেন সমর্থন দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। তবে সেউতা অভিবাসন সংকটের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন পরীক্ষার মুখে পড়েছে।

