এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক বছরের চুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী তাকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সাইফুল ইসলাম জয়কে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর আগে তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ৩৪তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং ইয়োফাসের সেক্রেটারি ও ৩৪তম বিসিএস অল ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নিয়োগের পর প্রশ্ন উঠেছে-এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে নিয়োগের আগে সাইফুল ইসলাম জয়ের পুরো প্রশাসনিক ক্যারিয়ার, অতীত কর্মকাণ্ড এবং কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে সেগুলো কি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে?
বিশেষ করে তার অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে যেসব দাবি ও অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো কীভাবে যাচাই করা হয়েছে-তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
দাবি রয়েছে, ৩১তম বিসিএসের মূল গেজেটে সাইফুল ইসলাম জয়ের নাম ছিল না। পরবর্তীতে বিশেষ ব্যবস্থায় ৩০-এর অধিক কর্মকর্তার নামে পৃথক গেজেট প্রকাশিত হলে সেখানে তার নামও আসে। তবে এ দাবির পক্ষে সংশ্লিষ্ট সরকারি গেজেট বা নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
আরও দাবি করা হচ্ছে, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল এবং শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভেতরে যে টিম কাজ করেছিল, তার সঙ্গেও তিনি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন-এমন অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারি নথি বা নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
২০১৯ সালে তার কিশোরগঞ্জে পোস্টিং নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ও জনপ্রশাসন ফেলোশিপের মাধ্যমে তার ও তার স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র যাচাই করাও জরুরি।
বর্তমানে সাইফুল ইসলাম জয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের একান্ত সচিব। ফলে এটি নিছক একটি সাধারণ প্রশাসনিক পদায়ন নয়। মুখ্য সচিবের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার কারণে পদটির প্রশাসনিক গুরুত্ব রয়েছে।
এ অবস্থায় নিয়োগের আগে তার ক্যারিয়ার রেকর্ড ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কী ছিল-এ প্রশ্নের উত্তর জানা প্রয়োজন।
সরকার কি তার অতীতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভূমিকা সম্পর্কে অবগত ছিল?
যদি অভিযোগগুলো আগে থেকেই সরকারের নজরে থেকে থাকে, তাহলে সেগুলো কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে?
আর যদি এসব তথ্য সরকারের জানা না থাকে, তাহলে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে নিয়োগের আগে ব্যাকগ্রাউন্ড ভেটিং কতটা কার্যকর ছিল-সেটিও প্রশ্নের বিষয়।
জনগুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়া থাকা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের প্রতি জনআস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মূখ্য সচিবের একান্ত সচিব হিসবে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম জয়ের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সংযোগে যাওয়ার অবারিত সুযোগ থাকাটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে সাবেক স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট পতিত সরকারের ঘনিষ্ঠ এমন একজনকে মূখ্য সচিবের একান্ত সচিব হিসবে নিয়োগ প্রদান করা রাষ্ট্রের জন্যে আত্মঘাতী বটে।
সাইফুল ইসলাম জয়ের নিয়োগকে ঘিরে ওঠা প্রশ্নগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। বিশেষ করে তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যেসব দাবি উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করে সরকারি অবস্থান পরিষ্কার করা হলে বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে।

