দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রেখে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয় প্রবাসীদের। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিয়ম অনুযায়ী ফ্লাইট অবতরণের ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে প্রথম লাগেজ এবং সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিটের মধ্যে সব ব্যাগেজ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও, ঢাকার বিমানবন্দরে এর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে প্রথম লাগেজ পেতেই লেগে যায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা, আর শেষ লাগেজ পেতে কখনো কখনো আড়াই থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
তীব্র ট্রলি সংকট ও অব্যবস্থাপনা
দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি মাথায় নিয়ে লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার পাশাপাশি যাত্রীদের পোহাতে হয় তীব্র ট্রলি সংকট। একসঙ্গে একাধিক ফ্লাইট নামলেই ট্রলির জন্য শুরু হয় হুড়োহুড়ি। মাঝেমধ্যে জোড়াতালি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া লাগেজ চুরি, টার্মিনালে উপচে পড়া ভিড় এবং বসার জায়গার স্বল্পতা যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে বাংলাদেশ
এশিয়ার অন্যান্য প্রধান বিমানবন্দরগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়—
-
সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর: ল্যান্ডিংয়ের ১২ থেকে ১৫ মিনিটে প্রথম লাগেজ এবং ৩০ মিনিটের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয় (স্কাইট্র্যাক্স রেটিং: ফাইভ-স্টার)।
-
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর: ১৫ থেকে ২০ মিনিটে প্রথম লাগেজ এবং সর্বোচ্চ ৪০ মিনিটে সব ব্যাগেজ হস্তান্তরিত হয় (রেটিং: থ্রি-স্টার)।
-
থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর: ১৫ থেকে ২০ মিনিটে প্রথম লাগেজ ও ৪০ মিনিটে সম্পূর্ণ ডেলিভারি দেওয়া হয় (রেটিং: ফোর-স্টার)।
-
ভারতের দিল্লি ও মুম্বাই বিমানবন্দর: ২০ থেকে ২৫ মিনিটে প্রথম লাগেজ এবং ৪৫ থেকে ৫০ মিনিটে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় (রেটিং: ফোর-স্টার)।
পক্ষান্তরে, নানাবিধ ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও জনবল সংকটের কারণে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্কাইট্র্যাক্সের মূল্যায়নে মাত্র টু-স্টার রেটিং পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি দেশের বিমানবন্দরে প্রবেশ করার পরই বিদেশি পর্যটক বা প্রবাসীদের মনে দেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রথম ধারণা তৈরি হয়। তাই এ ধরনের অব্যবস্থাপনা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
অন্যদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন এই বিমানবন্দর দিয়ে হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করলেও সেই তুলনায় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। তবে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মান উন্নয়ন, নতুন কর্মী নিয়োগ এবং ট্রলি সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

