গতকাল শুক্রবার আইডিয়াল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা তাজুল ইসলাম এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এই দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা অধ্যক্ষ মো. আলী উল্লেখিত ঘটনার দিন মাদরাসায় অনুপস্থিত থাকার সপক্ষে কিছু প্রমাণ উপস্থাপন করেন।
ঘটনার দিন অধ্যক্ষ ছিলেন নির্বাচনী গণসংযোগে:
শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলেন, “উল্লিখিত ঘটনার দিন (২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) যে সময়ের উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সময় অধ্যক্ষ মো. আলী মাদরাসাতেই ছিলেন না। তিনি তখন পাশের উপজেলা দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১ আসনের এমপি প্রার্থীর নির্বাচনী গণসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন। তারা জানান, এই গণসংযোগের চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ প্রচারিত হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, “গতকাল বৃহস্পতিবার আমরা গভীর দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি মাদরাসার সুনাম ক্ষুণ্ম করার জন্য আমাদের মাদরাসার এক শিক্ষার্থীর মা মোসা. শিল্পী আমাদের প্রিন্সিপাল, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, শিক্ষার্থীদের পিতৃসমতূল্য অভিভাবক এবং বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কুরুচীপূর্ণ, রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতে মিথ্যা, বানোয়াট এবং বিভ্রান্তিকর অভিযোগ এনে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।”
তারা প্রশ্ন তোলেন, “ঘটনার দিন অভিযোগ না করে সরকারি একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করা হলো, তা তাদের কাছে বোধগম্য নয়। পরবর্তীতে ঘৃণ্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অংশ হিসেবে উল্লিখিত ঘটনার ৮ দিন পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।”
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যেসব দাবি ও প্রমাণ উপস্থাপন করে:
অধ্যক্ষের অনুপস্থিতি: অভিযোগকারী ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫-এর তারিখ উল্লেখ করেছেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, “ওই দিন অধ্যক্ষ মো. আলী দোহারের সুতারপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী গণসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন। ফেসবুকে লাইভ প্রচারিত ভিডিওতে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়, তিনি সুতারপাড়ায় গণসংযোগে ব্যস্ত এবং সেখানে যোহরের আযান শোনা যাচ্ছে।”
শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি: “উল্লিখিত মিথ্যা ঘটনার পরেও মাদরাসা খোলা ছিলো ছয় কার্যদিবস। এর মধ্যে এক দিন বাদে বাকি পাঁচ কার্যদিবস অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাশে এসেছে। শিক্ষক ও অভিভাবকরা প্রশ্ন তোলেন, যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটতো, তাহলে কি ওই শিক্ষার্থী নিয়মিত মাদ্রাসায় যেতো? সে কি এই ঘটনা তার কোনো ক্লাসমেট বা শিক্ষক বা অভিভাবকের সাথে শেয়ার করতো না?” তারা জোর দিয়ে বলেন, এটি একটি সুগভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় অধ্যক্ষের কোনো আলাদা রুম নেই: “সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীর মা উল্লেখ করেছেন, তার মেয়েকে অধ্যক্ষ জনাব মোহাম্মদ আলী তার আলাদা রুমে ডেকেছিলেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এর প্রতিবাদ করে বলেন, এই মাদরাসায় অধ্যক্ষের জন্য কোনো আলাদা রুম নেই। অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী যে রুমে বসেন, সেখানে শিক্ষক ও অফিস সহকারীরাও বসেন এবং অধ্যক্ষের পাশেই অভিভাবকদের বসার রুম। এ থেকেই পরিষ্কার, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কল্পিত ও বানোয়াট।”
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ বলেন, “এই ঘটনার মাধ্যমে মাদ্রাসার সুনামসহ একজন সম্ভাবনাময়ী সৎ, চরিত্রবান, দেশপ্রেমিক আলেম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন তিনি আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।”
সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসার সকল শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, পরিচালক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

