গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দৈনিক ইনকিলাবের অনলাইন ও মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত ‘ফ্যাসিস্টের দোসর মনিরুলের ২০ হাজার কোটি টাকা পাচার’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী মো. মনিরুল ইসলাম।
৯ সেপ্টেম্বর দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক বরাবর পাঠানো এক লিখিত প্রতিবাদপত্রে মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থপাচার, হুন্ডি, কর ফাঁকি, সুদের কারবার, চাঁদাবাজি, জমি দখল, অবৈধ সম্পদ অর্জন, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাসহ যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বা এর কোনো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো পদ-পদবি ধারণ করেননি। কোনো প্রমাণ ছাড়া তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করাও অবমাননাকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।
‘২০ হাজার কোটি টাকা পাচার’-এর অভিযোগও সরাসরি অস্বীকার করে মনিরুল ইসলাম বলেন, তিনি কোনো অর্থপাচার, হুন্ডি বা অবৈধ অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত নন। একই সঙ্গে কর ফাঁকি, চাঁদাবাজি, জমি দখল, সুদের কারবার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রতিবেদনে হাফিজ আহমেদকে তাঁর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়টিও মিথ্যা বলে দাবি করেন মনিরুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, হাফিজ আহমেদ তাঁর কাছ থেকে এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় ২০২৩ সালে তাঁর দায়ের করা মামলায় বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত হাফিজ আহমেদকে ১ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন বলে প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মনিরুল ইসলামের দাবি, হাফিজ আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা ও ঋণসংক্রান্ত মামলাসহ আরও একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাঁর জানা মতে ৭৬টির বেশি মামলা চলমান। এছাড়া ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ হাফিজ আহমেদ গ্রেপ্তার হন এবং ৩ জানুয়ারি ২০২৪ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তাঁর বিরুদ্ধে NRBC Bank-এর প্রায় ২৬ কোটি টাকা পাওনা, একাধিক মামলায় সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, ২ মে ২০২৫ মতিঝিল থানায় হাফিজ আহমেদ, তাঁর স্ত্রী সাইফুন নাহার মাহেনু, ছেলে আব্দুল্লাহ আল রাফে, মেয়ে ফাবিহা জাহিন রাইদা ও সাইমা সাদিয়া এবং নাসির আহমেদ জারজিসসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে বিনিয়োগ ও প্রাপ্য বাবদ প্রায় ১৫ কোটি ৯২ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৭ টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে মামলা করেন মনিরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, তদন্ত শেষে ৩১ মে ২০২৬ সংশ্লিষ্ট ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এসব মামলা, তদন্ত ও আদালতের নথি যথাযথভাবে যাচাই না করে একপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় প্রকৃত ঘটনার অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর চিত্র পাঠকের সামনে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, তাঁর ন্যায্য পাওনা আদায় ও চলমান আইনগত কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল প্রতিবেদককে একপেশে বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে থাকতে পারে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট মামলা, তদন্ত, অভিযোগপত্র ও অন্যান্য নথি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন ছিল।
প্রতিবাদপত্রে মনিরুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না থাকার দাবি করে সংবাদটির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা জানান। একই সঙ্গে প্রতিবাদটি দৈনিক ইনকিলাবের অনলাইন ও মুদ্রিত সংস্করণে যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশের অনুরোধ করেন। অন্যথায় তাঁর সম্মান, সুনাম ও আইনগত অধিকার রক্ষায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

