etcnews
ঢাকাWednesday , 9 September 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সর্বশেষ যে তথ্য পাওয়া গেল

etcnews
September 9, 2026 12:14 pm
Link Copied!

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজোল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আইনি যাচাই শেষ হলেই এসআরও নম্বর দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর রেজোল্যুশনটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রজ্ঞাপনটি যাচাই করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা দেশের এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অযথা সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে স্কেলের অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোর বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে। তবে ভেটিংসহ আনুষ্ঠানিক কিছু ধাপ বাকি থাকায় গেজেট প্রকাশে সময় লাগছে।নতুন বেতন কাঠামোয় তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা। ২০তম গ্রেডের বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতন বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে এ গ্রেডে বেসিক বাড়ছে ১১ হাজার ৭৫০ টাকা বা প্রায় ১৪২ শতাংশ।

অন্যদিকে সর্বোচ্চ অর্থাৎ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ।

তবে অনুমোদিত নতুন বেসিকের পুরোটা একবারে কার্যকর হচ্ছে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই তিনটি ধাপে বাড়তি বেতন মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের অর্ধেক প্রথম ধাপে, এক-চতুর্থাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে। আর প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে বাড়তি অংশের ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে নতুন বেসিক কার্যকর করা হবে।

২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকায় বেসিক বাড়ছে। প্রথম ধাপে ৫ হাজার ৮৭৫ টাকা যুক্ত হলে বেতন দাঁড়াবে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে যোগ হবে ২ হাজার ৯৩৭ টাকা ৫০ পয়সা। এতে বেসিক হবে ১৭ হাজার ৬২ টাকা ৫০ পয়সা। তৃতীয় ধাপে একই পরিমাণ যুক্ত হয়ে তা ২০ হাজার টাকায় পৌঁছাবে।

প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বেসিক নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩১ হাজার ২০০ টাকা যোগ হয়ে মূল বেতন হবে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা। পরের দুই ধাপে ২৩ হাজার ৪০০ টাকা করে যুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত বেসিক দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

নবম গ্রেডেও মূল বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে। বর্তমান ২২ হাজার টাকা থেকে তা বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে এ গ্রেডের বেসিক দাঁড়াবে যথাক্রমে ৩০ হাজার ৮০০, ৩৭ হাজার ৪০০ এবং ৪৪ হাজার টাকা।

নতুন পে স্কেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-বাড়তি বেসিক কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ভাতা নতুন হারে মিলবে না। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে নতুন বেসিক পুরোপুরি কার্যকর হলেও ভাতার পূর্ণ সুবিধা পেতে চাকরিজীবীদের আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।

নতুন কাঠামোয় একজন নতুন চাকরিজীবীর সম্ভাব্য মোট আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ঢাকায় ২০তম গ্রেডে নতুন নিয়োগ পাওয়া কোনো কর্মচারীর ২০ হাজার টাকা বেসিকের সঙ্গে প্রযোজ্য ভাতা যুক্ত হলে মাসিক আয় প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা হতে পারে। তবে কর্মস্থল ও ভাতার ধরন অনুযায়ী এ অঙ্কে পার্থক্য থাকবে।

১৩তম গ্রেডে নতুন নিয়োগ পাওয়া একজন সহকারী শিক্ষকের ২৪ হাজার টাকা বেসিক হলে ভাতাসহ আয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা হতে পারে। ১০ম গ্রেডে ৩২ হাজার টাকা বেসিকের সঙ্গে ভাতা যুক্ত হলে মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা ছাড়াতে পারে।

নবম গ্রেডের একজন নতুন কর্মকর্তার বেসিক হবে ৪৪ হাজার টাকা। ঢাকায় ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া হিসেবে আরও ২২ হাজার টাকা যোগ হলে বেসিক ও বাড়িভাড়া মিলিয়ে ৬৬ হাজার টাকা হবে। অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতা যুক্ত হলে মোট আয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা হতে পারে।

তবে পুরোনো কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাব সরাসরি এসব উদাহরণের মতো হবে না। তাদের চাকরির মেয়াদ, বর্তমান মূল বেতন, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রাপ্যতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।তবে পুরোনো কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাব সরাসরি এসব উদাহরণের মতো হবে না। তাদের চাকরির মেয়াদ, বর্তমান মূল বেতন, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রাপ্যতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে নতুন কাঠামো কার্যকর করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। এর আওতায় আসবেন সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, একবারে পুরো বেতন কাঠামো চালু করা হলে সরকারের রাজস্ব ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় চাপ পড়ত। সে কারণে রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে বেতন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ মনে করেন, কয়েক ধাপে বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। এতে একসঙ্গে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হবে না।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।