etcnews
ঢাকাWednesday , 9 September 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইতালিতে বাঁধনকে হেনস্তা, দেশে-বিদেশে প্রতিবাদ

etcnews
September 9, 2026 9:52 am
Link Copied!

ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী ও জুলাই যোদ্ধা আজমেরী হক বাঁধন। গত সোমবার বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে ভেনিস শহরের মেস্ত্রে এলাকায় একটি পার্কে গেলে এ ঘটনা ঘটে। বাঁধনকে হেনস্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সংসদেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জুলাই আন্দোলনকারীরা, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ ও নেটিজেনরা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।চলতি সপ্তাহে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ চলচ্চিত্র দলের সঙ্গে অংশ নেন বাঁধন। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে চলচ্চিত্রটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। প্রিমিয়ার শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন তিনি।বাঁধনের ভাষ্যমতে, তাকে পানি, কোমলপানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং হাত থেকে মুঠোফোন ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় তার ভাই, ভাবি ও তাদের তিন বছরের শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিল। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, একদল ব্যক্তি বাঁধনের দিকে পানি ছুড়ছে। তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণও করা হয়। তার গায়ে হাত তোলা হয়েছে এবং কানের পাশেও আঘাত করতে দেখা গেছে। এ সময় কোলে বাচ্চা নিয়ে এক ব্যক্তি আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। ঘটনাস্থলে ওই ব্যক্তির স্ত্রীও ছিলেন, যিনি আক্রমণকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। বাঁধন এক পোস্টে তাদের ‘কাজিন’ ও তার পরিবার বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।ভিডিওতে আক্রমণকারীদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এই যে জুলাই জঙ্গি! যিনি দেশ ও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে। আমরা ভেনিস ছাত্রলীগ। এই ডিম আনো! ডিম আনো! আমরা দেশদ্রোহী এই জঙ্গিকে গোসল করিয়ে দিয়েছি।’ ওই ব্যক্তি বলতে থাকেন, ‘ওরা দেশটা ধ্বংস করছে! কোনো মানুষের শান্তি নাই! আমরা ইতালির ছাত্রলীগ! আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক! বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্তে ওরা যাবে, আমরা তাদের প্রতিহত করব! জুলাই জঙ্গি! তুই জঙ্গি! ভিডিওতেও কয়েকজনকে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলতে এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে শোনা যায়। একটি ভিডিওতে শিশুটির কথা উল্লেখ করে হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। জবাবে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘কিসের আবার বাচ্চা, ওকে জয় বাংলা বলতে হবে।’

হামলর পর ভিডিও বার্তায় বাঁধন অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে লক্ষ্য করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। বাঁধন বলেন, আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। একজন আজমেরী হক বাঁধনকে দমানো এত সহজ হবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, তাকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বলা হয়। সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রকাশের চেষ্টা করেন হামলাকারীরা।

হামলাকারীদের উদ্দেশে বাঁধন আরও বলেন, ‘আপনাদের এই অসংলগ্ন আচরণ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল, আপনারা তা করতে পারেননি। আপনারা ভেবেছেন, এভাবে করেই হয়তো পরে নিজেদের জায়গাটা ফের সুগঠিত করতে পারবেন। সেটা আমার মনে হচ্ছে না।

বর্তমানে নিরাপদে আছেন ও হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বাঁধন জানান, এখানকার অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে আসছি না। এটার শেষ আমি দেখে ছাড়ব। বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে থানায় গিয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।

ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া এসেছে। সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বাঁধন পুলিশের কাছে ও দূতাবাসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন। দূতাবাস বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরবে। বাঁধনের ওপর হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এর আগে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী ও এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

এদিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং ইতালিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ইটস আ মাফিয়া গ্যাং। প্রমাণ হচ্ছে আজমেরী হক বাঁধনের ওপরে হামলা। তারা আবার বোঝালো ওদের আদৌ রাজনৈতিক দল হিসেবে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত হবে কি না?

এদিকে হামলার ঘটনায় জড়িত দুজনের পরিচয় শনাক্ত করার দাবি করেছেন সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট জুলকারনাইন সায়ের। এক পোস্টে অভিযুক্ত হিসেবে হাওলাদার মনিরুল ও শিপলু মাহমুদ বিপ্লবের নাম উল্লেখ করেন তিনি।পরিচয় শনাক্তের পর হামলাকারী মনিরুল হাওলাদারের মাদারীপুরের ধুরাইলের গ্রামের বাড়ি থেকে পালিয়েছে তার পরিবার। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এই ঘটনার জন্য মনিরুলের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। কালবেলার মাদারীপুর প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যমতে, দেড় বছর আগে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি জমান মনিরুল হাওলাদার। তিনি সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের কনিষ্ঠ পুত্র। সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে তার মা আলেয়া বেগম তার বড় ভাইকে নিয়ে বসবাস করেন। এ ছাড়া তার তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা জানাজানি হলে বৃদ্ধা মা ও তার বড় ভাইয়ের পরিবারের সবাই বাড়ি থেকে পালিয়েছে। এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি আবুল কামাল আজাদ বলেন, ঘটনাটি জানার পরেই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যেন বাড়িঘরে হামলা করতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। সেখানকার ইউপি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে, তিনি সব ধরনের সহযোগিতাও করছেন।

রাজনৈতিক দলগুলো যা বলছে অভিনেত্রী বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার বলেন, জুলাই যোদ্ধা বাঁধনের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, বরং ভিন্নমত দমনের একটি ভয়ংকর নজির হয়ে থাকবে। অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে ইতালীয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব লেখেন, একজন নারী তথা জুলাই যোদ্ধাকে বিদেশের মাটিতে একা পেয়ে এ ধরনের কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা প্রমাণ করে, ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের সামান্যতম অনুশোচনা হয়নি। সেহেতু এ সন্ত্রাসীদের জন্য আমাদের মনেও কখনো সামান্যতম সহানুভূতি জাগ্রত হবে না। তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বিদেশে মাটিতে থাকা শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদদ ও উস্কানিতেই এই রাজনৈতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হামলা পরিচালিত হচ্ছে। তাদের এই অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আবার প্রমাণ করে দিল যে, এই ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) সম্ভব নয়। তাদের স্থান কেবল আইনের কাঠগড়ায়। এ হামলায় জড়িত চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাদের ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ডিপোর্ট (বহিষ্কার) করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বাঁধন ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা যত বড় সন্ত্রাসীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিচার চাইলেন নেটিজেনরা এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাঁধনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিচারের দাবি জানিয়েছেন অনেক অভিনেত্রী। অভিনয়শিল্পী মৌসুমী হামিদ তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, এই দেশে শিল্পী হওয়াটাও পাপের। কারণ, শিল্পীরাই দেখি সবচেয়ে বড় রাজনীতিবিদ হিসেবে কথা বলছেন। কোনো শিল্পীর ওপর হামলাই কাম্য নয়। সেটা ৩২ নম্বরে হোক আর ইতালির ভেনিসেই হোক। জীবনে কোনো দিন কোনো রাজনৈতিক দল করিনি কিন্তু দেশের ভালোমন্দ পরিস্থিতি নিয়ে সব সময় কথা বলে গেছি।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে পরীমণি লিখেছেন, ‘বেশি কিছু না। কতগুলা কুকুরের বাচ্চা রাস্তায় ঘেউ ঘেউ করছে। এদের কাছে মানুষের বাচ্চার কান্না কিছুই ম্যাটার করে না। করেও না।’

ইতালিতে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়েছেন সাফা কবির। তিনি ফেসবুকে লেখেন, বাঁধনকে অন্যায়ভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। একজন শিল্পীর ওপর এ ধরনের হামলা শুধু নিন্দনীয় নয়, বরং অত্যন্ত লজ্জাজনক। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া দরকার, যেন বাঁধন ন্যায়বিচার পান।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।