নারীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় চলাচল করছে মহিলা বাস। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে চালুর একদিন পর অর্থাৎ দ্বিতীয় দিনে ঢাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা মিললো না মহিলা বাসের।
বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে শুরুতে শ্যামলী, আসাদগেট, কলেজগেট, আড়ং, সংসদ ভবন পর্যন্ত ঘুরে মাত্র একটি মহিলা বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। এতেও ছিলেন মাত্র কয়েকজন যাত্রী।সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকে সাড়ে ১০টার পর পর্যন্ত ফার্মগেটে অবস্থান নিয়ে থাকলেও এই সময়ে কোনো মহিলা বাস চোখে পড়েনি।
সাড়ে ১০টার পর থেকে প্রায় সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর বিজয় সরণী, আগারগাঁও, মিরপুর-২ নম্বর এবং মিরপুর ১ ঘুরে আর কোনো মহিলা বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি।সড়কে চলাচলকারী মহিলা বাস সার্ভিসে অধিকাংশ আসন ফাঁকা ও হাতে গোনা যাত্রী নিয়ে চলাচলের চিত্র দেখা মিললেও সাধারণ গণপরিবহনে মহিলা যাত্রীর উপস্থিতি ছিল চোখে পরার মতো। একই সঙ্গে এদিন সকালের শুরুতে গন্তব্যমুখী নারীদের সাধারণ গণপরিবহনের গেটে ঝুলে চলাচল করতেও দেখা গেছে।
রাজধানীর ফার্মগেট বাস পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা আসমা আক্তার বলেন, আসলে মহিলা বাসের জন্যই যে দাঁড়িয়ে আছি এটা ভুল। প্রতিদিনের মতো ডিউটির জন্য বের হয়েছি। প্রতিদিন যে সময়ে বাসা থেকে বের হয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষায় থাকি আজও তাই। আমার নির্ধারিত গন্তব্যে যাওয়ার যে গাড়ি আসবে তাতেই উঠে যাবো। নির্দিষ্ট মহিলা বাসের আশায় থাকলে কখন আসবে, কখন অফিস পৌঁছাবো, টাইম মতো যেতে পারবো কি না সন্দেহ।আরেক মহিলা যাত্রী সোনালী খাতুন বলেন, প্রায় ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু এই সময়ের মধ্যে গাড়ির দেখা পায়নি। তবে এটা নিঃসন্দেহে ভালো একটা উদ্যোগ।
বিআরটিসি সূত্র জানায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা সংযুক্ত করে এসব বাসের রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকার ৯টি রুটে ১০টি বাস চলাচল করবে। এসব বাসের চালক ও কন্ডাক্টরও নারী।প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকায় ১০টি এবং চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মোট চারটি বাস দিয়ে এ সেবা শুরু হয়েছে। ঢাকার ৯টি রুটে সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে বাসগুলো। এসব বাস থামবে মোট ১১৪টি স্টপেজ।

