ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় ওমান বাধা দিলে দেশটিতে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুমকি দেন।ইরান-সংঘাত অবসানে আলোচনার জন্য নির্ধারিত দুই মাসের সময়সীমা সোমবার শেষ হয়েছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। এর মধ্যেই ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ওমানকে নতুন করে হুমকি দিলেন ট্রাম্প।ট্রাম্প বলেন, ‘ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব।’ এর আগে একই ধরনের হুমকি তিনি ওমানের বিরুদ্ধে দিয়েছিলেন।
ওমান সরাসরি এই যুদ্ধে কোনো পক্ষ নয়। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে। ফলে ট্রাম্পের এমন হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক ও অনিশ্চিত কূটনৈতিক অবস্থান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত সেই লক্ষ্যে বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকাতেও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইয়েমেনের হুথিরা দাবি করেছে, তারা লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবের সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
হুথিদের দাবি অনুযায়ী, হামলায় একটি সৌদি সামরিক জাহাজ ও চারটি সহযোগী জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
হামলাটি বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে একটি বন্দরে হয়েছে বলে দাবি করেছে হুথিরা। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান যুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনার পাশাপাশি লোহিত সাগরেও হামলা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথগুলোতে নিরাপত্তা ও সরবরাহ-ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক সমাধান আনতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অসন্তোষ বাড়ছে দেশটির উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে।
অপর এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন, আর এর মূল্য আমাদের দিতে হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকেই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানান তিনি।
আরব ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন এই উপসাগরীয় দেশগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিষয়ে ক্রমেই সমালোচনামুখর হয়ে উঠছে।
ইরান ও দেশটির মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কয়েক মাস ধরে চলা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে যুদ্ধের প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে কয়েকটি দেশ তাদের ভূখণ্ডে থাকা বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
ট্রাম্প বারবার ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে পরে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলে তা থেকে সরে এসেছেন। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। গত তিন মাস ধরে ইরান ও ওমান নিরাপদে জাহাজ চলাচলের পথ নিয়ে আলোচনা করছে। এদিকেও কড়া নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র।

