etcnews
ঢাকাWednesday , 12 August 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি

মৎস্যে নতুন অর্থনীতির সম্ভাবনা

etcnews
August 12, 2026 6:13 pm
Link Copied!

দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের বড় জোগান আসে মাছ থেকে। খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক বাণিজ্যেও মৎস্য খাতের অবদান বাড়ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে মাছ উৎপাদন হয়েছে ৫০ দশমিক ১৮ লাখ মেট্রিক টন।একই সময়ে মাছ ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৪ হাজার ৫৩১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশই এসেছে চাষ থেকে। তবে বিপুল উৎপাদনের তুলনায় রপ্তানি এখনো অনেক কম।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে নয়, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মাননিয়ন্ত্রণ, ট্রেসিবিলিটি, কোল্ডচেইন, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে প্রতি কেজি মাছে বেশি মূল্য সংযোজন করতে পারলেই মৎস্য খাত বাংলাদেশের পরবর্তী বড় রপ্তানি শিল্পে পরিণত হতে পারে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংসদেও তিনি দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে সরকার গবেষণা, সংরক্ষণ ও আবাসস্থল পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।ইলিশ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন। মৎস্য খাতের জন্য বর্তমান সময়ে একটি বিষয় স্পষ্ট উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মান, সংরক্ষণ ও বাজার সম্প্রসারণকে একই পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি মৎস্যপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি ধাপে মান নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।মৎস্য খাতের পরবর্তী বড় পরিবর্তন হতে পারে খামারিকে সরাসরি রপ্তানি মূল্যশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করা। সহজ শর্তে ঋণ, মৎস্যবীমা, মানসম্পন্ন পোনা, উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও মাঠপর্যায়ে কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানও উন্নত করা সম্ভব।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চের চেয়ারম্যান ও ল্যাবএইড হাসপাতাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম মৎস্য খাতকে খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি রপ্তানি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, মৎস্য খাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ঋণ সুবিধা দিতে হবে। একই সঙ্গে মাছের পোনা ও খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজাল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। আরেক বিশ্লেষণে তিনি মৎস্য রপ্তানি বাণিজ্যে ই-ট্রেসিবিলিটির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে পণ্যের উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইযোগ্যতা বাড়ানো জরুরি।

তিনি জানান, কাঁচামাল নয়, মূল্য সংযোজিত পণ্য রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশের বড় সুযোগ রয়েছে প্রক্রিয়াজাত মৎস্যপণ্যে। খোসা ছাড়ানো ও শিরা পরিষ্কার করা চিংড়ি, রান্নার জন্য প্রস্তুত মাছ, মাছের ফিলে, নির্দিষ্ট আকারে কাটা মাছ, মসলা বা আবরণ দেওয়া মাছ, রান্না করা চিংড়ি এবং সরাসরি খাওয়ার উপযোগী পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দাম দিতে পারে। অর্থাৎ এক কেজি মাছ সাধারণ হিমায়িত পণ্য হিসেবে বিক্রি না করে যদি প্রস্তুত খাবার বা উচ্চমূল্যের প্রক্রিয়াজাত পণ্যে রূপান্তর করা যায়, তাহলে রপ্তানি আয় বহুগুণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেছেন, এ জন্য আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ, হিমায়িত পরিবহন, মানসম্পন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, পরীক্ষাগার ও দ্রুত বন্দরসেবা দরকার। খামার থেকে সংগ্রহকেন্দ্র, সেখান থেকে কোল্ডচেইন, এরপর কারখানা ও বন্দর কোনো একটি স্তরে সমস্যা থাকলে পুরো রপ্তানি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক বলেন, ‘মৎস্য রপ্তানির ক্ষেত্রে মাননিয়ন্ত্রণ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর দায়িত্বের ধরনই তার ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য শুধু উৎপাদন যথেষ্ট নয়; খাদ্যনিরাপত্তা, ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরীক্ষাগারে মান যাচাই এবং পণ্যের উৎস শনাক্ত করার সক্ষমতা থাকতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে ই-ট্রেসিবিলিটি।’

তিনি আরও বলেন, অর্থাৎ একটি রপ্তানি চালানের মাছ কোন খামার থেকে এসেছে, কী খাদ্য ব্যবহার হয়েছে, কখন সংগ্রহ করা হয়েছে, কোথায় সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং কোন প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় প্যাকেটজাত হয়েছে পুরো তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা। তিনি বলেন, আগামী দিনের মৎস্যচাষ হবে তথ্যনির্ভর। পানির তাপমাত্রা, অক্সিজেন, পিএইচ ও অ্যামোনিয়ার মাত্রা পরিমাপে কম খরচের সেন্সর ব্যবহার করা যেতে পারে।

তিনি বলেছেন, ‘স্বয়ংক্রিয় খাদ্য সরবরাহ ও ডিজিটাল খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খাদ্যের অপচয় কমানো সম্ভব। রোগ শনাক্তকরণেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তবে বড় প্রশ্ন প্রযুক্তির দাম। ক্ষুদ্র খামারির পক্ষে দামি যন্ত্র কেনা সম্ভব নয়। তাই সমবায়ভিত্তিক বা সেবা হিসেবে প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একটি অঞ্চলের কয়েকশ খামারি একটি ডিজিটাল পানি পরীক্ষা বা রোগ শনাক্তকরণ সেবার আওতায় এলে খরচও কমবে, সুবিধাও বাড়বে।’

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।