উত্তর গোলার্ধের আকাশে বুধবার, ১২ আগস্ট দেখা যাবে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মানুষ এই মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে পারবেন। তবে বাংলাদেশের অবস্থান গ্রহণের দৃশ্যমান পথের বাইরে হওয়ায় এ দেশের আকাশ থেকে বুধবারের সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব হবে না।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের গতিপথ শুরু হবে আর্কটিক অঞ্চল থেকে। এরপর চাঁদের ছায়া গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড অতিক্রম করে ইউরোপের দিকে এগিয়ে স্পেনে পৌঁছাবে। গ্রহণের পূর্ণগ্রাস পর্যায়ে স্পেনের কিছু অঞ্চল থেকে সূর্য পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে চলে যাবে। সেখানে সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড স্থায়ী হবে পূর্ণগ্রাস।তবে সব জায়গা থেকে গ্রহণের পূর্ণ পর্যায় দেখা যাবে না। পশ্চিম ইউরোপের লন্ডন ও প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকা, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার কিছু অংশ থেকে সূর্যের আংশিক গ্রহণ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোন অঞ্চল থেকে কতটা গ্রহণ দৃশ্যমান হবে, তা নির্ভর করবে সেই স্থানের ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর।
বাংলাদেশ থেকে যে কারণে দেখা যাবে না
সূর্যগ্রহণ দেখতে হলে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে থাকতে হয়। চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করলেও তার ছায়া পৃথিবীর সব জায়গায় পড়ে না। যে অঞ্চলের ওপর চাঁদের ছায়া বা উপছায়া পৌঁছায়, মূলত সেখান থেকেই গ্রহণ দেখা যায়। ১২ আগস্টের গ্রহণের দৃশ্যমান পথ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যাবে না। ফলে ঢাকা কিংবা দেশের অন্য কোনো স্থান থেকেই এদিন সূর্যের আংশিক বা পূর্ণগ্রাস কোনোটিই দেখা যাবে না।
ঢাকায় কবে দেখা যাবে পরবর্তী সূর্যগ্রহণ?
বাংলাদেশিদের অবশ্য খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকায় পরবর্তী দৃশ্যমান সূর্যগ্রহণ হবে ২০২৭ সালের ২ আগস্ট। তবে সেটিও পূর্ণগ্রাস হবে না; ঢাকার আকাশ থেকে দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ।
ওই দিন স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে ঢাকায় গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। সেই সময় সূর্যের মাত্র প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ অংশ চাঁদের আড়ালে থাকবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে গ্রহণটি দেখা গেলেও তা খুব বেশি নাটকীয় দৃশ্য তৈরি করবে না।আগামী দুই দশকে আরও কয়েকটি গ্রহণ হতে যাচ্ছে
ঢাকা থেকে ২০২৭ সালের পরও বেশ কয়েকটি আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২০৩৪ সালের ২০ মার্চের গ্রহণটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই দিন ঢাকার আকাশে সূর্যের প্রায় ৫৮ শতাংশ অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এছাড়া ২০৩১ সালে প্রায় ৪২ শতাংশ, ২০৩৫ সালে প্রায় ৪৩ শতাংশ এবং ২০৪২ সালে প্রায় ৪৫ শতাংশ সূর্য ঢেকে যেতে দেখা যেতে পারে। ফলে বাংলাদেশ থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ না থাকলেও আগামী বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আংশিক গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যাবে।১২ আগস্টের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘিরে এরই মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চল দিয়ে পূর্ণগ্রাসের পথ অতিক্রম করবে, সেখানে এই বিরল দৃশ্য পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে অবশ্য এবারের গ্রহণ দেখা যাবে না। তাই দেশের আকাশে সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য আগ্রহীদের অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত।

