etcnews
ঢাকাWednesday , 12 August 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বচ্ছ ব্যালটে ভোট দেবেন এমপিরা

etcnews
August 12, 2026 11:18 am
Link Copied!

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর একাধিক প্রার্থী থাকায় এবার সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ১৯৯১ সালের পর দেশে একাধিকবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কোনোবারই ভোটের প্রয়োজন হয়নি। প্রতিবারই একজন প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার একাধিক প্রার্থী থাকায় সেই সুযোগ থাকছে না। সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্ধারিত হতে পারেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রপতি ও সংসদীয় উভয় ব্যবস্থার কারণে বহুবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় তপশিল অনুসারে, সংসদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন একটি গোপন ভোটে। পরে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতির বিধান চালু করা হয়। তখন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল। তবে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর পরই সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান চালু করা হয়। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বর্তমানে সংসদ সদস্যদের দ্বারা পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন।গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হয়। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজউদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে এই পদে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন বৈঠক করে তপশিল অনুমোদন করবে। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সরকারি গেজেটে তপশিল প্রকাশ করবেন। তপশিলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ, যাচাই-বাছাইয়ের দিন, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং প্রয়োজন হলে ভোটগ্রহণের তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ থাকবে। এই নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বও পালন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন। তপশিল অনুসারে, ২০ আগস্ট হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট। অবশ্য একাধিক প্রার্থী না থাকলে ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে না। তখন ১৬ আগস্ট বাছাই শেষে একক প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যাবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ১৩ আগস্ট ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ অগাস্ট। এরপর আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ হবে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন কক্ষে।ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী করা হয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। গত ৯ আগস্ট রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকেও দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার বিষয়টি অনেকটাই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ফলে এবার রাষ্ট্রপতি পদে দুজন প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এ জন্য এবার ভোটের প্রয়োজন হতে পারে।

১৯৯১ সালে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন এবং ১৯৯১ সালের শুরুর দিকে সংসদীয় নির্বাচনের পর, ওই বছরের সেপ্টেম্বরে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হয়। এই পরিবর্তনের ফলে জনগণের সরাসরি ভোটের পরিবর্তে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার নিয়ম চালু হয়। ১৯৯১ সালের অক্টোবরে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি আবদুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করে।

পরবর্তী সময়ের নির্বাচনগুলোর মতো না হয়ে, সেবার উভয় প্রার্থীই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি মাঠে বহাল ছিলেন এবং সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে হয়েছিল। বাংলাদেশ সংসদীয় পদ্ধতিতে ফিরে আসার পর এটিই এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ভোটে আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর তিনিই বঙ্গভবনে প্রথম কোনো রাষ্ট্রপতি হিসেবে পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করেন।

এরপর থেকে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বিশ্বাস-বদরুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর থেকে আর কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে ভোট দিতে হয়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি এরশাদের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ১৯৯১ সালে আবার প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে যান।

বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসার পর ২০০১ সালে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে পরের বছরই তার মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে, যখন বিএনপির সংসদীয় দল তার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করায় তিনি পদত্যাগ করেন।

এরপর বিএনপি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে মনোনীত করে, যিনি ২০০২ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হন। রাজনৈতিক সংকট এবং সংসদীয় নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার কারণে তিনি তার মূল পাঁচ বছরের মেয়াদের চেয়েও বেশি সময় ধরে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বঙ্গভবনে ছিলেন।

২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলেও এই ধারা অব্যাহত থাকে। ২০০৯ সালে জিল্লুর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে তার মৃত্যুর পর, ওই বছরের এপ্রিলে আবদুল হামিদ কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালেও আবদুল হামিদ আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরবর্তী মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন।

২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. সাহাবুদ্দিনও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হননি এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। চলতি বছরের ২৪ জুলাই মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন, যার ফলে এই পদটি শূন্য হয় এবং নির্বাচন কমিশন আসন্ন এই নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা কী সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের ১ দফায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন। একই অনুচ্ছেদের ৪ দফা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি— ৩৫ বছরের কম বয়সী হন; সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন; অথবা সংবিধানের অধীন অভিশংসনের মাধ্যমে কখনো রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর যোগ্যতা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য যে যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত রয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকেও সেগুলো পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর হতে হবে।’সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বা সদস্য পদে থাকার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না, যদি তিনি আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হন, দেউলিয়া হয়ে দায়মুক্ত না হন, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ বা আনুগত্য স্বীকার করেন, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড পেয়ে মুক্তির পাঁচ বছর না পেরোয়, ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশে দণ্ডিত হন, লাভজনক সরকারি পদে অধিষ্ঠিত থাকেন বা আইন অনুযায়ী, নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হন। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্যতার বিষয়ে আরও কিছু বিষয় বিস্তারিত বলা আছে। এসব অযোগ্যতা থাকলেও কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না।

কীভাবে হবে নির্বাচন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করবেন। এ জন্য জাতীয় সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনি কর্তা এতে সভাপতিত্ব করবেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাবক ও একজন সংসদ সদস্যের সমর্থকের স্বাক্ষর থাকতে হবে। একই সঙ্গে মনোনীত ব্যক্তির সম্মতিসূচক বিবৃতিও দিতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। নির্বাচন কমিশন এ জন্য ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের পর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে নির্ধারিত দিনে সংসদ কক্ষে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট হবে। ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনা প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হবে। সর্বোচ্চ ভোট একাধিক প্রার্থী সমানভাবে পেলে তাদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনি কর্তার ঘোষিত ফলাফলই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। যদিও সংসদে বিএনপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে দলটির মনোনীত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।