বিশ্বকাপ মানেই নতুন গল্প, নতুন নায়ক। কিন্তু কিছু নাম আছে, যারা প্রতিবারই নিজেদের গল্পকে আরো মহাকাব্যিক করে তোলেন।লিওনেল মেসি সেই বিরলদের একজন।
২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে আলজেরিয়ার বিপক্ষে যখন মাঠে নামেন, তখন তার বয়স ৩৮। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো এটি তার শেষ বিশ্বকাপের আরেকটি অধ্যায়। কিন্তু প্রথম ম্যাচে নেমেই মেসি যেন মনে করিয়ে দিলেন, বয়স কেবল একটি সংখ্যা, প্রতিভা আর ক্ষুধাই একজন কিংবদন্তিকে আলাদা করে।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে সহজ জয় এনে দেন তিনি। তবে এটি শুধুই তিন গোলের গল্প নয়; এটি ইতিহাস স্পর্শ করার গল্পও বটে।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে যান মেসি। ফলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে বসে গেলেন তিনি।এতদিন ১৬ গোল নিয়ে এককভাবে শীর্ষে ছিলেন ক্লোসা, এখন সেই রেকর্ডে ভাগ বসালেন আর্জেন্টাইন জাদুকর।
বিশেষ ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপে এটি মেসির ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা, অসংখ্য রেকর্ড গড়া এবং ২০২২ সালে শিরোপা জয়ের পরও এই অর্জনটি তার ঝুলিতে ছিল না। সেই অপূর্ণতাও এবার পূরণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে।
ম্যাচজুড়ে আলজেরিয়ার রক্ষণকে বারবার বিভ্রান্ত করেছেন মেসি।কখনো নিখুঁত ফিনিশিং, কখনো অসাধারণ পজিশনিং, আবার কখনো তার চিরচেনা ড্রিবলিং। সব মিলিয়ে যেন পুরোনো দিনের মেসিকেই ফিরে পেয়েছে ফুটবল বিশ্ব।
এই হ্যাটট্রিকের পর চলতি বিশ্বকাপের গোলদাতাদের তালিকাতেও শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি। পেছনে ফেলেছেন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডকে।
সবচেয়ে বড় কথা, এখন মেসি দাঁড়িয়ে আছেন আরেকটি ইতিহাসের দরজায়। বিশ্বকাপে একক সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার জন্য তার প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল। সেই গোলটি এলেই ক্লোসাকে ছাড়িয়ে নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম দেবেন ফুটবলের অন্যতম সেরা এই শিল্পী।
কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা ঘুচিয়েছিলেন মেসি। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে তিনি যেন একে একে ছুঁয়ে দেখছেন ফুটবলের সবচেয়ে দুর্লভ রেকর্ডগুলো। তাই প্রশ্নটা এখন আর মেসি কত দূর যাবেন, সেটি নয়। প্রশ্ন হলো, আর কত ইতিহাস লিখবেন তিনি?

