বাংলাদেশ থেকে অধিক সংখ্যক চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মী মালদ্বীপের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে এদেশ থেকে ওষুধ আমদানিরও আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।বৃহস্পতিবার (২১ মে) দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সম্প্রতি হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গীলা আলী। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে দু’দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গিলা আলী বলেন, তার দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বর্তমানে থেরাপিস্টসহ বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবা সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০ জন থেরাপিস্ট প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী ও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশ এই জরুরি প্রয়োজন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এসময় দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন, এবং বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চিকিৎসক ও থেরাপিস্ট নিয়োগ করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেন। একইসাথে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের অভূতপূর্ব অগ্রগতির প্রশংসা করে, সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি মানসম্মত ওষুধ আমদানির আগ্রহও প্রকাশ করেন।
একইভাবে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের আন্তর্জাতিক মান ও উৎপাদন সক্ষমতা সরেজমিনে যাচাই করতে মালদ্বীপের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে বলেও মন্ত্রী বৈঠকে জানান।
বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম এ বিষয়ে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশি থেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে দাফতরিকভাবে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। দ্রুতই একদল দক্ষ বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মী মালদ্বীপে যোগ দিয়ে দেশটির স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী গিলা আলী মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে মেডিকেল ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেয়ায় ধন্যবাদ জানান। এই দিকে লক্ষ্য রেখে, হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম অবহিত করেন যে, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক কোটার অধীনে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য ৭টি পূর্ণ অর্থায়িত শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে এবং মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের সাশ্রয়ী ও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ নেয়ারও আহ্বান জানান।
বৈঠকে মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আর্থ-সামাজিক অবদানের প্রশংসা করার পাশাপাশি দেশটিতে অবৈধভাবে কর্মরত প্রবাসীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আইসিইউ সেবাসহ অন্যান্য ব্যয়বহুল জরুরি মানবিক চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রাখার কথাও যোগ করেন মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সাক্ষাৎ পরবর্তী আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান স্বাস্থ্য সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন ও আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে কৌশলগত স্বাস্থ্য সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

