বাংলা চলচ্চিত্রে লোকজ সংস্কৃতি ও মানবিক আবেগকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন ইতোমধ্যেই নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। তার বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র হাওয়া দেশ-বিদেশে প্রশংসা কুড়ানোর পর এবার নতুন সিনেমা রইদ নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে।
আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই সিনেমাটি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডাম-এর টাইগার কম্পিটিশন বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে “রইদ”। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রটি নির্বাচিত হয়েছে সেটেল ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল -এও। ফলে সিনেমাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।এরই ধারাবাহিকতায় আজ সন্ধ্যায় প্রকাশ পাচ্ছে সিনেমাটির দ্বিতীয় গান “মন ছাড়া কী মনের মানুষ রয়”। এর আগে মুক্তি পাওয়া “রইদ আইলা গা জুড়াইতে” গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। নতুন গানটিও মুক্তির আগেই দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে তৈরি করেছে বাড়তি উন্মাদনা।
গানটির কথা লিখেছেন বাউল সাধক মাতান চাঁদ গোস্বামী। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের কিংবদন্তি দৃষ্টিহীন বাউল শিল্পী কানাই দাস বাউল। তার আবেগঘন কণ্ঠ গানটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক গভীরতা।
চলচ্চিত্রটির জন্য গানটির নতুন সংগীতায়োজন করেছেন ইমন চৌধুরী। দেশীয় লোকসংগীতের আবহের সঙ্গে আধুনিক সাউন্ডের মিশেলে তিনি গানটিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের ভাষ্য, বহু বছর ধরেই তিনি এই গানটির শ্রোতা। “রইদ”-এর চিত্রনাট্য লেখার সময়ও গানটি তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তবে গানটি প্রকাশের আগেই কানাই দাস বাউলের মৃত্যু হওয়ায় তার প্রতি এক ধরনের আবেগ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
লোকজ দর্শন, আধ্যাত্মিক আবেগ ও সমকালীন সংগীতের সংমিশ্রণে “মন ছাড়া কী মনের মানুষ রয়” ইতোমধ্যেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। আজ সন্ধ্যায় গানটি সকল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হবে।
/কানিজ

