রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার এক তরুণ উদ্যোক্তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের পানের বরজ ভেঙে সেখানে গড়ে তুলেছেন আঙুর বাগান। আর সেই বাগান ঘিরেই এখন তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনার গল্প।
জানা গেছে, সফল উদ্যোক্তা ইমাম হাসান সাগর উপজেলার হাসনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় দুই বিঘা জমিতে তিনি লাগিয়েছেন প্রায় ৪০০টি আঙুর গাছ। গাছগুলোর বয়স মাত্র ৯ থেকে ১০ মাস হলেও প্রতিটি গাছে ইতোমধ্যে ২০ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত আঙুর ধরেছে। এতে করে লাখ টাকার বেশি আয় হওয়ার আশা করছেন তিনি।ভিনদেশি ফল হওয়ায় সাগরের এই আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাগান ঘুরে দেখছেন এবং ছবি তুলছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন এখন এক নতুন আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠেছে।
বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী রিফাত বলেন, ইউটিউব বা ফেসবুকে বিদেশে আঙুর চাষের ভিডিও দেখতাম। এখন নিজের এলাকাতেই এমন বাগান দেখতে পাচ্ছি, যা সত্যিই অবাক করার মতো। এই প্রজেক্ট দেখে অনেকেই নিজেরাও এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন।উদ্যোক্তা সাগর জানান, তার বাগানে থাকা বাইকনুর ও একলোয় জাতের আঙুরের চারা বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই পরীক্ষিত। তিনি বলেন, এপ্রিল থেকে জুন মাস আঙুর গাছ রোপণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। ফলগুলো হালকা টক-মিষ্টি হওয়ায় খেতে দারুণ সুস্বাদু। পলিনেট সেট হাউসের ব্যবস্থা করতে পারলে সারা বছরই আঙুর সংরক্ষণ করা সম্ভব।তিনি আরও জানান, কয়েকদিন আগে আমরা একটি গাছে গুনে প্রায় ৫০টি থোকা পেয়েছি। প্রতিটি থোকা প্রায় আধা কেজি ওজনের হয়। সে হিসেবে প্রতি গাছে প্রায় ২৫ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে আমি গড়ে ২০ কেজি ধরলেও ৪০০টি গাছে প্রায় ৮ টনের বেশি আঙুর উৎপাদন হবে। বাজারে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারলে প্রায় ২৪ লাখ টাকার বেশি বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
শুধু ফল বিক্রিই নয়, আঙুর গাছের চারা উৎপাদন ও বিক্রিতেও দেখছেন বড় সম্ভাবনা। সাগর বলেন, একটি গাছের চারা থেকেই বছরে একাধিকবার উৎপাদন পাওয়া সম্ভব। আমার এখানে ৩০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা মূল্যের তিন জাতের উন্নতমানের আঙুর গাছের চারা রয়েছে। এই চারা বিক্রি করেও প্রায় ১৬ লাখ টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) পাপিয়া রহমান বলেন, দেশে যদি এই মিষ্টি আঙুরের আবাদ আরও বাড়ানো যায় তাহলে বিদেশ থেকে আঙুর আমদানির নির্ভরতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি এটি দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিতে পারে।

