etcnews
ঢাকাThursday , 23 April 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ধসে পড়ছে ব্যবসা খাত

etcnews
April 23, 2026 12:02 pm
Link Copied!

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে সব খাতেই এখন মূল্যবৃদ্ধির হিড়িক। সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। উৎপাদন, ভ্রমণ ও খনিজ খাতের ব্যয় বেড়েছে। সব মিলিয়ে ভোক্তাদের আস্থাহীনতা বাড়ছে দিন দিন।বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের নানামুখী চাপে ছিল বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। শুল্ক বৃদ্ধি, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও দুর্বল চাহিদার চাপে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।সরবরাহে বিঘ্ন ও খরচ বৃদ্ধিতে নাজেহাল প্রতিষ্ঠানগুলো

অনেক প্রতিষ্ঠান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পরিবহন ও কাঁচামালের সংকটে রয়েছে। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় এ সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।
রং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আকজোনোবেল জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে তাদের সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ডুল্যাক্স ব্রান্ডের পণ্য বাজারে জনপ্রিয় হলেও কাঁচামালের খরচ বাড়ায় কমছে উৎপাদন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্রেগ পউক্স গুইলাম বলেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বিঘ্নের কারণে কাঁচামালের খরচ প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

অসহায় ভোক্তারা

কোম্পানিগুলো এ বাড়তি ব্যয় নিজেরা বহন করবে নাকি ভোক্তাদের ওপর চাপাবে এটাই এখন বড় প্রশ্ন। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হতে পারে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব প্রতিষ্ঠানের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা কম, তারা তাদের আর্থিক নির্দেশনা কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি খরচ সরাসরি ভোক্তাদের ওপর চাপাতে পারে।

জ্বালানি সংকট

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এ রুটে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়েছে।

যুদ্ধ বেশিদিন চললে এ সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও মার্চে ইউরোপে জ্বালানি খরচ কিছুটা কমেছে, তবুও তা এখনো আগের তুলনায় বেশি।

বিভিন্ন খাতে নেতিবাচক প্রভাব

যুদ্ধ শুরুর পর কোম্পানিগুলোর বিবৃতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২১টি কোম্পানি তাদের আর্থিক নির্দেশনা প্রত্যাহার করেছে, ৩২টি কোম্পানি পণ্যের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে, ৩১টি কোম্পানি সরাসরি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

খাদ্যপণ্যের খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফরাসি খাদ্য কোম্পানি ড্যানোন জানিয়েছে, তাদের শিশু খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা শিশুখাদ্যের চালানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে।

এছাড়া বিমান খাতেও প্রভাব পড়েছে। মার্কিন বিমান নির্মাতা জি-ই অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, যুদ্ধজনিত অনিশ্চয়তার কারণে তাদের ব্যবসা চাপে রয়েছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ততই বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব বাড়বে। জ্বালানি, পরিবহন ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যবসার পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রভাব ফেলছে এ যুদ্ধ। যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।