যবিপ্রবি প্রতিনিধি:
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভায় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রদলপন্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা দেখা দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সভা শেষ না করেই স্থান ত্যাগ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শরীফ হোসেন গ্যালারিতে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নিয়ে বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।জানা যায়, ছাত্রদলপন্থী এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য দীর্ঘায়িত হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। অপরদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের সময় ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া’ ও ‘গুপ্ত’ বলে স্লোগান দেয়। এতে করে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি চালুর পক্ষে অবস্থান নিলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ পূর্বের মতো রাজনীতি নিষিদ্ধ রাখার দাবি জানায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উপাচার্য সভা শেষ না করেই বেরিয়ে যান। পরে ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় এবং বিভিন্ন স্লোগান দেয়। একই সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের অপর একটি অংশও সেখানে অবস্থান নেয়, ফলে পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সভায় তাদের বক্তব্য দেওয়ার সময় বাধা দেওয়া হয় এবং ‘মব’ তৈরি করে তাদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করা হয়। তারা এ ঘটনার বিচার দাবি করে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়।
অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তারা জানান, উপাচার্য আগের নিয়ম অনুযায়ী ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন কাজ করবে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ক্যাম্পাসে সব ধরনের দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ। তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খল আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৩তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় ক্যাম্পাসে সকল ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
/কেএফ/সাব্বির

