নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ ও চৈত্রসংক্রান্তি উদ্যাপন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আগামী ১৩ ও ১৪ এপ্রিল নানা আয়োজনে উৎসবের আমেজে মেতে উঠবে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনের এই আয়োজনে বাঙালির হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলাধুলা থেকে শুরু করে লোকসংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ তুলে ধরা হবে। উৎসবের প্রথম দিন ৩০ চৈত্র চৈত্রসংক্রান্তির অনুষ্ঠানগুলো আয়োজন করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। এদিন বিকেল চারটায় গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে উৎসবের পর্দা উঠবে। এরপর বিকেল পাঁচটায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনের আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় শুরু হতে যাওয়া বাউলগানের আসরের মধ্য দিয়ে।
নববর্ষের দিন ১লা বৈশাখ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক মহাযজ্ঞ চলবে ক্যাম্পাসের ‘গাহি সাম্যের গান’ মঞ্চে। সকাল নয়টায় বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হবে বর্ষবরণের মূল আয়োজন। এরপর সকাল সাড়ে দশটায় ঐতিহাসিক লাঠিখেলা এবং সাড়ে এগারোটায় পরিবেশিত হবে বিলুপ্তপ্রায় ‘ধুয়া’ গান। দুপুর সাড়ে বারোটায় বৈশাখী ও বাউলগান পরিবেশনের পর পর্যায়ক্রমে দুপুর আড়াইটায় শব্দকুঞ্জের আবৃত্তি, পৌনে তিনটায় ড্যান্স ক্লাবের বৈশাখী নৃত্য, বেলা তিনটায় সমগ্রর আবৃত্তি এবং সোয়া তিনটায় রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের শেষাংশে বেলা সাড়ে তিনটায় ব্যান্ড সোসাইটির পরিবেশনায় থাকবে বৈশাখী গান এবং বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরার মধ্য দিয়ে শেষ হবে দিনব্যাপী এই আয়োজন।
পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল ওসমানী এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক সুশান্ত কুমার সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সপরিবার উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই বর্ণাঢ্য উৎসবের মধ্য দিয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাঙালির চিরায়ত লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক বিরাট মিলনমেলা ঘটবে।
/কেএফ/মো: সাইফুল ইসলাম।

