নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভারতের প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা ও কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড স্বদেশ ভট্টাচার্যের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। তাঁর মৃত্যুতে ভারতের বিপ্লবী বামপন্থী আন্দোলনে এক বড় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক শোক বিবৃতিতে সাইফুল হক বলেন, গত রাতে ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনায় ৮৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ এই বিপ্লবী নেতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন।
বিবৃতিতে সাইফুল হক উল্লেখ করেন, চারু মজুমদারের মৃত্যুর পর ১৯৭৪ সালে যে তিনজন বিপ্লবী নেতা সিপিআই-এমএল লিবারেশন পার্টিকে নতুন ধারায় শ্রেণি ও গণসংগ্রামের ভিত্তিতে পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, কমরেড স্বদেশ ভট্টাচার্য ছিলেন তাঁদের অন্যতম। পার্টি পুনর্গঠন কমিটির প্রথম সম্পাদক কমরেড জহর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। পরবর্তী সম্পাদক কমরেড বিনোদ মিশ্র ১৯৯৮ সালে অকালে মৃত্যুবরণ করেন। এই ত্রয়ী বিপ্লবী নেতার সর্বশেষ সদস্য হিসেবে স্বদেশ ভট্টাচার্যের প্রয়াণে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
তিনি বলেন, কমরেড স্বদেশ ভট্টাচার্য রেখে গেছেন বিপ্লবী মতাদর্শ, শ্রেণিসংগ্রাম ও গণসংগ্রামের এক অসাধারণ উত্তরাধিকার। গত পাঁচ দশকে তাঁর নেতৃত্ব ও ভূমিকার মধ্য দিয়ে সিপিআই-এমএল লিবারেশন ভারতে বিপ্লবী বামপন্থী ধারার অন্যতম পুরোধা সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ভারতের লোকসভা ও একাধিক রাজ্য বিধানসভায় দলটির প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
সাইফুল হক আরও বলেন, ভারতে ইন্ডিয়া জোটের শরিক হিসেবে ভোটাধিকার ও সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে স্বদেশ ভট্টাচার্যের দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চলমান এই গণসংগ্রামের অন্যতম নেত্রী নেহা বোরা দলটিরই সদস্য।
শোকবার্তায় তিনি বলেন, স্বল্পভাষী ও ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক গুণাবলির অধিকারী এই মহান বিপ্লবীর প্রয়াণে লিবারেশন পার্টিসহ ভারতের বিপ্লবী বামপন্থী আন্দোলন তাদের অভিভাবকতুল্য একজন ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। কমরেড স্বদেশ ভট্টাচার্যের বিপ্লবী জীবন ও রাজনৈতিক আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
বিবৃতিতে সাইফুল হক স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সপ্তম ও দশম কংগ্রেসে লিবারেশন পার্টির আমন্ত্রিত প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে কমরেড স্বদেশ ভট্টাচার্য বাংলাদেশে এসেছিলেন। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তাঁর গভীর মমতা ও ভালোবাসা ছিল।
বিবৃতির শেষাংশে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত কমরেড স্বদেশ ভট্টাচার্যের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও লিবারেশন পার্টির নেতাকর্মীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

