রাজধানীতে সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ, বিস্ফোরণ ও নৈরাজ্যের অভিযোগের প্রতিবাদে দিনভর মাঠে সক্রিয় ছিল বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মগবাজার সেঞ্চুরি মার্কেটের সামনে যুবদল নেতা এন এম আবদুল্লাহ উজ্জ্বলের নেতৃত্বে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি বিকেলে রমনা থানা বিএনপির আহবায়ক আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে শান্তিনগর থেকে বেইলি রোড এলাকায় বের হয় প্রতিবাদ মিছিল। নেতাকর্মীদের বক্তব্য, রাজধানীর রাজপথে সহিংসতা ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ, বিস্ফোরণ ও নৈরাজ্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার দিনভর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মগবাজারের সেঞ্চুরি মার্কেটের সামনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। বিকেলে শান্তিনগান মোড় থেকে বেইলি রোডসহ আশপাশের এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল করে রমনা থানা বিএনপি।
গত কয়েক দিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার হাইকোর্টের সামনে ও শিল্পকলা একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরণের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে মগবাজার, মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, বাবুবাজার, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা এবং কয়েকটি বাসে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনার দায় কার, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
মগবাজারে সকাল থেকে অবস্থান
প্রদত্ত তথ্য ও ছবিতে দেখা যায়, মগবাজারের সেঞ্চুরি মার্কেটের সামনে সোমবার দিনভর অবস্থান করেন বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক এন এম আবদুল্লাহ উজ্জ্বল।
মগবাজারের সেঞ্চুরি মার্কেট থেকে মগবাজার সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কলেজসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তাদের বক্তব্য, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল—‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা রমনায় হবে না’।
শান্তিনগান থেকে বেইলি রোডে রমনা থানা বিএনপির মিছিল
অন্যদিকে বিকেল ৪টার দিকে রমনা থানা বিএনপির উদ্যোগে শান্তিনগর মোড় থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বেইলি রোড ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মিছিলটির নেতৃত্ব দেন রমনা থানা বিএনপির আহবায়ক আশরাফুল ইসলাম। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন। তাদের কর্মসূচির মূল বক্তব্য ছিল অগ্নিসংযোগ, সহিংসতা, নৈরাজ্য ও গুপ্ত হামলার অভিযোগের প্রতিবাদ এবং রাজধানীর স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা।
মিছিল থেকে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পরে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিএনপির ঢাকা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় মাঠে উপস্থিতি
সোমবারের এসব কর্মসূচি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন বিএনপি ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটকে সাংগঠনিকভাবে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার-এর ২১ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলটি ঢাকার থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দলীয় কার্যালয় সক্রিয় রাখা, সাংগঠনিক সভা করা, স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো এবং নিজ নিজ এলাকায় দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বিএনপি ও দলটির তিন অঙ্গসংগঠন ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর যুবদল, ২৩ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবক দল, ২৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদল এবং ২৫ সেপ্টেম্বর বিএনপি ও তিন অঙ্গসংগঠনের যৌথভাবে মিছিলসহ কর্মসূচি পালনের কথা জানানো হয়েছে।
মগবাজার-রমনায় রাজনৈতিক তৎপরতা
ফলে ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মগবাজার, শান্তিনগর ও বেইলি রোড এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ধারাবাহিক উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতার নেতৃত্বে দিনের বড় একটি সময় ধরে অবস্থান, অন্যদিকে রমনা থানা বিএনপির নেতৃত্বে বিকেলের প্রতিবাদ মিছিল—দুই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক উপস্থিতিও দৃশ্যমান হয়েছে।
এতে উপস্থিত ছিলেন, আশরাফুল ইসলাম আহবায়ক রমনা থানা বিএনপি , শামীম হোসেন – সদস্য সচিব রমনা থানা বিএনপি , আবদুল মোতালেব রুবেল ১৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি , হুমায়ুন কবির সাধারণ সম্পাদক ১৯ নং ওয়ার্ড বিএনপি, আব্দুর রহমান -সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রমনা থানা বিএনপি সহ আরো নেতৃবৃন্দ ।
তবে সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তই চূড়ান্ত তথ্য দেবে। ইতোমধ্যে এসব ঘটনায় সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার খবর এসেছে।

