ইয়েমেনের হুতিদের চলমান হামলার কারণে সৌদি আরবের সামরিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি জানিয়েছেন, তুরস্ক সৌদি আরবের প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান এসব কথা বলেন।হাকান ফিদান বলেন, সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর হামলা হচ্ছে। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এ বিষয়ে তিন দেশ একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে। সৌদি আরবের সামরিক সহায়তার প্রয়োজন হলে তুরস্ক তা পূরণে কোনো সমস্যা দেখছে না।
গত মাসে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।এদিকে ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি রাজধানী রিয়াদের ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে আগুন ও ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী দেখা যায়।
ফিদান বলেন, সৌদি আরবের কোনো ইচ্ছা নেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার। দেশটিকে এই যুদ্ধে টেনে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংকট নিরসনে বিভিন্ন পক্ষের কাছে নতুন কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তবে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে।
তুরস্ক হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে, হুতিদের হামলার জবাবে ‘মক্কা’ চুক্তির আওতায় সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ‘সময় এলে’ পাকিস্তান পদক্ষেপ নেবে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

