প্রকল্প অনুমোদনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন তো দূরের কথা, সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) টেবিলেই ওঠেনি প্রকল্পটি। অথচ তার আগেই শেষ হয়ে গেছে প্রকল্পের মূল কাজের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ! শুধু তাই নয়, আড়াই বছর মেয়াদি প্রকল্পটির নির্ধারিত সময়সীমাও এখন শেষের পথে। এমনকি প্রকল্প অনুমোদনের আগেই শেষ হয়ে গেছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদও। এমন পরিস্থিতিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত পোশাক ও চামড়া খাতের শ্রমিক সুরক্ষা প্রকল্পটি একনেক সভায় পাস করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া, ‘দ্য ইমপ্রুভড ওয়ার্কিং কন্ডিশন অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ওয়ার্কার্স ইন দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড লেদার সেক্টর’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের আগেই এমন ঘটনা ঘটেছে। বস্ত্র ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষায় নেওয়া ৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও উদ্যোগী মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক ধীরগতির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একনেক অনুমোদনের আগেই প্রকল্পের টাকা খরচ ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় এবং বর্তমান সরকারের অষ্টম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। জার্মান সরকারের সাহায্য সংস্থা জিআইজেডের অনুদানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।
প্রকল্পের নথি সূত্রে জানা গেছে, ‘দ্য ইমপ্রুভড ওয়ার্কিং কন্ডিশন অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ওয়ার্কার্স ইন দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড লেদার সেক্টর’ শীর্ষক প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। সেই হিসেবে আড়াই বছর মেয়াদি প্রস্তাবিত প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে বাকি আছে আর মাত্র সাড়ে তিন মাস। অর্থাৎ প্রায় তিন বছর আগে জমা দেওয়া প্রস্তাবিত মেয়াদ শেষের দ্বারপ্রান্তে এসে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে।সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একনেকে উত্থাপন ও চূড়ান্ত অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করার কথা থাকলেও বাস্তবে ঘটছে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একনেকে অনুমোদন না হলেও প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে আরও আগে। প্রস্তাবিত মেয়াদেই প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু করেছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং অনুদানদাতা জিআইজেড। এরই মধ্যে প্রকল্পের কাজ সিংহভাগ শেষ করেও ফেলা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) এক কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করে কালবেলাকে বলেন, প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন একনেক থেকে এখনো না মিললেও বাস্তবে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ এরই মধ্যে শেষ করে ফেলা হয়েছে। স্টাডি পরিচালনা করা, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো তৈরি, সাড়ে ৮ লাখ শ্রমিকের ডাটাবেজ তৈরিসহ অনেকগুলো কাজ অনুদান প্রদানকারী সংস্থার সহায়তায় শেষ করা হয়েছে।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, একনেক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত কোনো প্রকল্পের প্রশাসনিক কিংবা আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত। তবে এই আইনগত বাধ্যবাধকতাকে পুরোপুরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকল্পটির সিংহভাগ কাজ শেষ করে ফেলা হয়েছে। ফলে খাতা-কলমে প্রকল্পের সিংহভাগ মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কাগজে-কলমে এখনো এটি ‘অননুমোদিত’ তালিকায় রয়ে গেছে। এমনকি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) বৈদেশিক অর্থায়নের সুবিধার দোহাই দিয়ে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্প ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর পরিকল্পনা কমিশনে বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি বা এসপিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় টিএপিপির বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দিয়ে প্রকল্পটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সাধারণত এসপিইসি সভার নির্দেশনার পর দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পুনর্গঠিত টিএপিপি জমা দেওয়ার কথা থাকলেও শ্রম মন্ত্রণালয় ও ডিআইএফই তা পাঠাতে সময় নেয় দীর্ঘ ১৪ মাস। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে জমা দেওয়া হয় ওই টিএপিপি।
তবে পুনর্গঠিত টিএপিপি পাঠানোর আগেই দাতা সংস্থার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। প্রকল্পের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার ও জিআইজেডের মধ্যে ৭ মিলিয়ন ইউরো (৮৯.২৫ কোটি টাকা) অনুদানের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী, চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রায় পৌনে দুই বছর পর ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগে অনুষ্ঠিত বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভায় প্রকল্পটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
পরবর্তী সময়ে প্রকল্প প্রস্তাবনা বা টিএপিপি গঠনে দীর্ঘ কালক্ষেপণ করে উদ্যোগী সংস্থা ডিআইএফই এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এসপিইসি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টিএপিপি সংশোধন করে দ্রুত পরিকল্পনা কমিশনে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতা ছিল। সাধারণত এসপিইসি সভার নির্দেশনার পর দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পুনর্গঠিত টিএপিপি জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সেই টিএপিপি পরিমার্জন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে সময় নেয় দীর্ঘ ১৪ মাস। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে জমা দেওয়া হয় ওই টিএপিপি।
২০২৬ সালে যখন পুনর্গঠিত টিএপিপি শিল্প ও শক্তি বিভাগে এসে পৌঁছায়, ততদিনে উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে মূল অনুদান চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে এক মাস পার হয়ে গেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদকালের বেশিরভাগ সময় শেষ হয়ে গেছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগ থেকে চলতি বছরের ৯ মার্চ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে অনুদান চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হালনাগাদ তথ্য সরবরাহের অনুরোধ জানানো হলেও মন্ত্রণালয় থেকে এতদিনেও সেই চিঠির কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘ এই কালক্ষেপণ ও সমন্বয়হীনতার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, জিআইজেডের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং পরিকল্পনা কমিশনের বিভিন্ন আর্থিক হিসাব ও পর্যবেক্ষণ সংশোধন করতে গিয়ে একাধিকবার ফাইল কাটাকাটি করতে হয়েছে। এ ছাড়া দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নথিপত্র সংশোধনের কারণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লেগেছে। তবে পরিকল্পনা সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি অনুদানভিত্তিক কারিগরি প্রকল্পের টিএপিপি পুনর্গঠনে ১৪ মাস সময় নেওয়া চরম প্রশাসনিক অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতার প্রমাণ।
জানতে চাইলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অর্থ ও পরিকল্পনা অধিশাখার যুগ্ম মহাপরিদর্শক মো. হাসিবুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, আগে বৈদেশিক অনুদানের কারিগরি প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে টিএপিপি পাস করানোর খুব একটা কড়াকড়ি ছিল না, উন্নয়ন সহযোগীরা নিজেদের মতো কাজ শুরু করে দিত। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন সম্প্রতি এ বিষয়ে কড়াকড়ি শুরু করায় এখন অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, টিএপিপি পুনর্গঠনে বিলম্বের পেছনে মন্ত্রণালয়ের কোনো গাফিলতি ছিল না; জিআইজেডের নিজস্ব দেশের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া এবং বারবার প্রস্তাব পরিমার্জনের কারণেই মূলত সময় লেগেছে।
তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পাওয়ার আগেই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অনুমোদন নিয়ে প্রকল্পের কিছু বাস্তব কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অনুদান চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি ইআরডিতে চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের পাইলট ইআইএস প্রোগ্রামের মাধ্যমে দুর্ঘটনায় নিহত বা অঙ্গহানি হওয়া শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি প্রদেয় কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপনসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখার উপসচিব মো. আমজাদ হোসেন বলেন, এসপিইসি সভার পর্যবেক্ষণের পর অর্থনৈতিক সংশোধনীগুলো পরিদপ্তর থেকে তৈরি করতে সময় লেগেছে। এ ছাড়া দাপ্তরিক নথিপত্র সংশোধন করে টিএপিপি পুনর্গঠন করে পাঠাতে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি বিলম্ব হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের চিঠির দাপ্তরিক উত্তরও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অনুদান চুক্তি প্রতি দুই বছর পর পর নবায়ন বা বৈঠকের মাধ্যমে হালনাগাদ করা হয়, যা একটি চলমান প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না থাকলেও মাঠপর্যায়ে কিছু কাজ চলছে। দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত শ্রমিকদের পুনর্বাসনে প্রজেক্টটি ভালো ভূমিকা রাখছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে যার মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ শ্রমিকের তথ্য ডাটাবেজে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া ৯২টি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড-বায়ার এই স্কিমে অর্থায়ন করছে এবং বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকদের জন্য তিন মাস মেয়াদে মাসিক ১৫ হাজার টাকা সহায়তার প্রোটোকল তৈরি করা হয়েছে। আশা করছি, একনেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পাবে।
ব্যয়ের খাতভিত্তিক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দের একটি বিশাল অংশই রাখা হয়েছে পরামর্শক ফি, সফটওয়্যার ক্রয়, বিদেশি সফর এবং সভা-সেমিনারের পেছনে। খাত-সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, যে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলা হচ্ছে তৈরি পোশাক ও চামড়া খাতের সাধারণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, দুর্ঘটনাজনিত বীমা (ইআইএস) এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করা, সেখানে মূল বাজেটের সিংহভাগ টাকা চলে যাচ্ছে বিদেশি ও দেশি পরামর্শক এবং মিটিং-সেমিনারের পেছনে।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬-এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের ‘শ্রম ও শ্রমিক কল্যাণ’ অংশের দুর্ঘটনারোধে কার্যকর উদ্যোগ-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) ৮ দশমিক ৮-এর নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যের সঙ্গেও এটি সম্পর্কিত। অথচ সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত নির্বাচনি ইশতেহার ও জাতিসংঘের অভীষ্ট অর্জনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ের দোহাই দিয়ে যে প্রকল্পটি পেশ করা হচ্ছে, তার পুরো প্রক্রিয়াজুড়েই দেখা গেছে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও আইনি ব্যত্যয়।
চুক্তির মেয়াদ শেষ, দাপ্তরিক চিঠির উত্তর না দেওয়া এবং একনেক অনুমোদনের আগেই ৭০-৮০ শতাংশ কাজ শেষ করে ফেলার মতো বিষয়গুলো সামনে আসার পরও পরিকল্পনা কমিশন থেকে প্রকল্পটি একনেক সভায় পেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সুপারিশে বলা হয়েছে, বস্ত্র ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের বীমা সুবিধা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে প্রকল্পটি জিআইজেডের সহায়তায় ৮৯ দশমিক ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একনেক-এর অনুমোদনের জন্য পেশ করা হলো।
পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি চরম বাজে নজির। অনুমোদনের আগেই যদি ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে যায় এবং মেয়াদ শেষের দ্বারপ্রান্তে এসে অনুমোদন দেওয়া হয়, তাহলে প্রকল্পের স্বচ্ছ ও জবাবদিহি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিদেশি সহায়তার নামে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলাকেই উৎসাহিত করা হয়।
জানতে চাইলে সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশীদ কালবেলাকে বলেন, একনেকে অনুমোদনের আগে প্রকল্পের কাজ শুরু করার কোনো নিয়ম নেই, অনুদানের প্রকল্প হলেও অনুমোদন ছাড়া পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অনুমোদন ছাড়া কাজ শুরু করে তারা বিধিভঙ্গ করেছে এবং এর জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
অনুমোদন ছাড়া কাজ করে ফেলার পর প্রকল্পটি এত সহজে একনেকে অনুমোদন দেওয়া ঠিক হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কারিগরি প্রকল্পে প্রায়ই কাগজে-কলমে বা বায়বীয় কাজ দেখানো হয়। তাই পরিকল্পনা কমিশনকে আগে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে যে কাজগুলো সত্যি সত্যি বাস্তবে হয়েছে নাকি কেবল কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছে।

