etcnews
ঢাকাThursday , 27 August 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ-চীন সংযোগে বাড়বে কর্মসংস্থান: মাহদী আমিন

etcnews
August 27, 2026 3:50 pm
Link Copied!

শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ-চীন সংযোগ দুই দেশের অংশীদারত্ব, কর্মসংস্থান ও পেশাগত সম্ভাবনাকে সুদৃঢ় করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের মূল অঙ্গীকার। সেই পথেই আমরা শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। ক্লাসরুমের তাত্ত্বিক শিক্ষাকে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকারের পরিকল্পনা হলো সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশাল তরুণ বাংলাদেশি প্রজন্মকে এক ধাপ এগিয়ে রাখতে মান্দারিন তথা চাইনিজ ভাষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি।স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে চীনের গুয়াংডংয়ে ‘কারিগরি শিক্ষা সেতুবন্ধন ও চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক-বাণিজ্য মেধা উন্নয়ন’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এ কথা বলেন। কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি ও শিল্প-শিক্ষা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষক সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বসহ দ্বিপাক্ষিক শিক্ষা বিনিময় জোরদার করা উভয় দেশের মধ্যকার সংযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের সহযোগিতা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে, দক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আরও টেকসই ও পারস্পরিক সুবিধাজনক অংশীদারিত্ব গঠনে সহায়তা করতে পারে।টেকসই রূপান্তরের জন্য দ্বিপাক্ষিক শিক্ষায় সংযোগ এবং চীনের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে টেকসই করতে হলে আমাদের দক্ষ প্রজন্ম তোলা অপরিহার্য। বর্তমান যুগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি এবং আধুনিক লজিস্টিকসে পারদর্শী মানবসম্পদ তৈরি করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। চীনের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের পরিকল্পনা হলো এমন যুগোপযোগী মেধা তৈরি করা, যারা সরাসরি বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে নেতৃত্ব দিতে পারবে।

উভয় দেশের শিক্ষক ও গবেষকদের প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন সুদৃঢ় করার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘যেন নিয়মিত ফ্যাকাল্টি কোলাবোরেশন ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে চীনের আধুনিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। একই সাথে বিশাল তরুণ বাংলাদেশী প্রজন্মের জন্য চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি করা আমাদের অন্যতম পরিকল্পনা।’

চীনা শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে দুই দেশের মধ্যে আধুনিক এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ নেটওয়ার্ক তৈরি করার লক্ষ্যের কথা জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘যেন শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার সাথে সাথেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চীনা শিল্পাঞ্চলগুলোতে ইন্টার্নশিপ, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। এই শক্তিশালী সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিক্স, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং ও এমার্জিং টেকনোলজির আধুনিক ল্যাব এবং প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং ওয়ার্কশপ স্থাপনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়েছি।’

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার বিস্তার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে চীনা শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানান মাহদী আমীন। তিনি বলেন, চীন সরকারের কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি টেকসই ফ্রেমওয়ার্ক বা রূপরেখা তৈরি করাই বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ‘এই রূপরেখার অধীনে সুনির্দিষ্ট অংশীদারদের চিহ্নিত করে দ্রুত যৌথ প্রকল্প, আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং একাডেমিক কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।’ তিনি চীনের স্বনামধন্য শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে এসে আধুনিক ল্যাব স্থাপন ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা দক্ষতা উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ ও শিক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে এদেশের অপার সম্ভাবনাময় বিশাল তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বমানের সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। এছাড়া চীনের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশিষ্ট শিক্ষক-গবেষক, শিক্ষার্থী ও চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে চীনের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কারিগরি শিক্ষাকে আধুনিকীকরণে চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে বাংলাদেশের গভীর আগ্রহ রয়েছে। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী বিশাল সম্ভাবনার নির্দেশক এবং এই সম্ভাবনাকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তর করতে উচ্চমানের প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি প্রযুক্তিগত শিক্ষা, আধুনিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব এবং বাস্তবমুখী কর্মসংস্থান-ভিত্তিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশী ও চীনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতার আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চীনা কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে চলমান এই সহযোগিতা বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদী মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখবে।

চীনের ১১টি শীর্ষ কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কলেজের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়। কলেজগুলো হলো- এনপিং ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন সেন্টার, গুয়াংডং লিটারেচার অ্যান্ড আর্ট ভোকেশনাল কলেজ, গুয়াংডং নানহুয়া ভোকেশনাল কলেজ অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড কমার্স, গুয়াংডং পলিটেকনিক অব সায়েন্স অ্যান্ড ট্রেড, গুয়াংডং টিচার্স কলেজ অব ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজেস অ্যান্ড আর্টস, গুয়াংডং ইঞ্জিনিয়ারিং পলিটেকনিক, গুয়াংডং কান্ট্রি গার্ডেন ভোকেশনাল কলেজ, গুয়াংডং জিয়াংমেন প্রিস্কুল এডুকেশন কলেজ, কিংইয়ুয়ান পলিটেকনিক, গুয়াংডং লিংনান ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজ এবং গুয়াংঝু প্রিস্কুল এডুকেশন কলেজ।বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ও উপদেষ্টা এ সময় ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন ল্যাবরেটরি ঘুরে দেখেন এবং রোবোটিক্স, রোবট ডগের প্রোগ্রামিং এবং চীনা চা সংস্কৃতির প্রদর্শনী পর্যবেক্ষণ করেন।

বিশ্বব্যাপী কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গুয়াংডং ‘চায়নিজ + ভোকেশনাল স্কিলস’ ইন্ডাস্ট্রি-এডুকেশন ইন্টিগ্রেশন অ্যালায়েন্স চালু করা এ আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল। এটি কারিগরি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প-শিক্ষার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতার এক নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।

উভয় পক্ষই এই আলোচনাকে বাস্তবসম্মত ও টেকসই অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ করেন, যা কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্পের সাথে সংযুক্ত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।