চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়াই অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দাবি করছেন, ঢাকাই সিনেমার নন্দিত এই অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক আর নেই। তবে বিষয়টি পুরোপুরি গুজব বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনেরা।নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ জানিয়েছেন, ইলিয়াস কাঞ্চন ভালো আছেন। তার মৃত্যুর খবরের কোনো সত্যতা নেই। লিটন এরশাদ বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন ভালো আছেন। ভুল তথ্যে খবর ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।’আগেও বিভিন্ন সময়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। তখন তার পরিবারের পক্ষ থেকেও এসব খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানানো হয়। বর্তমানে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত এই বরেণ্য অভিনেতা লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রায় ১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসা নেওয়ার পর গত ৩ আগস্ট দেশে ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জন্যই তার এই দেশে ফেরা। দেশে ফেরার পর চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীদের অনেকেই তার সঙ্গে দেখা করতে যান। তাদের মধ্যে ছিলেন আলমগীর, মিশা সওদাগর, শবনম, আনোয়ারা, সুচন্দা, রোজিনা ও চম্পাসহ আরও অনেকে।গত ৭ আগস্ট রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত নিসচার ১১তম মহাসমাবেশেও অংশ নেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে তার কিশোরগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল।
দেশে ফেরার পর নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়েও সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছিলেন তিনি। গত ৯ আগস্ট রাতে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছিলেন, দেশে ফেরার পর নিজেকে কিছুটা বেশি স্বস্তিতে অনুভব করছেন। সবার সঙ্গে দেখা করা ও কথা বলতে তার ভালো লাগছে। একই সঙ্গে দ্রুত চিকিৎসা শেষ করে দেশে ফিরতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছিলেন তিনি।
বাবাকে হাসিখুশি দেখে নিজের ভালো লাগার কথাও জানিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মইন জয়। তিনি বলেন, ‘আব্বুর মুখের হাসিটাই আমার প্রাণ। আব্বুকে হাসিখুশি দেখে আমারও ভালো লাগছে।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চনের স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনরা। তাদের মতে, নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য যাচাই না করে এ ধরনের সংবেদনশীল খবর প্রচার করা উচিত নয়।
সুতরাং, ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবরটি সত্য নয়; তিনি বর্তমানে জীবিত আছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন।

