etcnews
ঢাকাTuesday , 25 August 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যে গান বদলে দিল ‘টাইটানিক’

etcnews
August 25, 2026 2:44 pm
Link Copied!

১৯৯৭ সালে ২৪ নভেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘টাইটানিক’ চলচ্চিত্রটির কথা মনে পড়লেই অনেকের মাথায় আসে ‘মাই হার্ট উইল গো অন’ থিং সংটির কথা। ‘টাইটানিক’ চলচ্চিত্রটি বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক মাইলফলক। এ সিনেমার সাফল্যের পেছনে শুধু এর ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট বা অভিনয় ছিল না, বরং এর আবহ সংগীতও এক বিশাল ভূমিকা রেখেছিল। বিশেষ করে সিনেমার মূল গান ‘মাই হার্ট উইল গো অন’ আজও বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে দোলা দেয়। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে, যে গানটি আজ বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে অন্যতম কালজয়ী সৃষ্টি, সেই গানটি সিনেমাতে রাখতে প্রথমে রাজি ছিলেন না পরিচালক জেমস ক্যামেরন। এমনকি গানটি গাইতেও চাননি এর মূল শিল্পী সেলিন ডিওন! তাহলে এত বাধার পর কীভাবে জন্ম নিল এই কালজয়ী গান?টাইটানিক’ সিনেমার পরিচালক জেমস ক্যামেরন প্রথমে তার সিনেমাতে কোনো পপ গান রাখতে চাননি। তিনি মনে করেছিলেন, বাণিজ্যিক কোনো গান সিনেমার ঐতিহাসিক ও গম্ভীর প্রেক্ষাপটকে নষ্ট করতে পারে। তবে ভিন্ন কিছু ভাবছিলেন সুরকার জেমস হর্নার। তিনি এ সিনেমার জন্য একটি দুর্দান্ত থিম সং তৈরি করতে চেয়েছিলেন। জেমস হর্নার প্রথমে সিনেমাটির জন্য ‘মাই হার্ট উইল গো অন’-এর সুর একটি বাদ্যযন্ত্রনির্ভর মোটিফ হিসেবে তৈরি করেন। কিন্তু তার একার পক্ষে সবটা করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই এবার সিনেমার শেষের ক্রেডিটের জন্য একটি কণ্ঠসংগীত সংস্করণ তৈরি করতে তিনি গীতিকার উইল জেনিংসকে যুক্ত করেন। উইল জেনিংস গানটির কথা লিখেছিলেন এমন একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, যিনি জীবনের অনেক বছর পেরিয়ে অতীতের দিকে ফিরে তাকাচ্ছেন। পরিচালকের গোপনেই গানটি তৈরির কাজ করছিলেন গীতিকার ও সুরকার।গানটির সুর ও কথা তৈরি হলো। এবার দরকার একজন কণ্ঠশিল্পীর। কিন্তু কে গাইবেন এই গান? তখন জেমস হর্নারের সঙ্গে চলচ্চিত্রের সংগীতে কাজ করা সাইমন ফ্র্যাংলেন প্রস্তাব করেন কানাডিয়ান পপ তারকা সেলিন ডিওনের নাম। কিন্তু সেখানেই বাধে বিপত্তি।

জেমস হর্নার গানটি নিয়ে যখন সেলিন ডিওনের কাছে যান, তখন সেলিন গানটি শুনে সরাসরি না করে দেন। গানটির সুর তার পছন্দ হয়নি এবং এর আগে অন্য একটি সিনেমাতে গান গাওয়ায় তিনি নতুন কোনো সাউন্ডট্র্যাকে কণ্ঠ দিতে চাচ্ছিলেন না। সেলিন তার এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন, ‘গানটি প্রথমবার শুনে আমার ভালো লাগেনি। আমি এটা গাইতে চাইনি।’ স্বামীর জোরাজুরি এবং ঐতিহাসিক সেই ডেমো রেকর্ড সেলিন ডিওন গানটি গাইতে পরিষ্কার মানা করে দিলেও তার স্বামী ও ম্যানেজার রেনে অ্যাঞ্জেলিল সুরকার জেমস হর্নারকে অনুরোধ করেন গানটির একটি ডেমো সংস্করণ রেকর্ড করার সুযোগ দিতে।স্বামীর জোরাজুরিতেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্টুডিওতে যান সেলিন। মজার বিষয় হলো, সেলিন সেদিন শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। তিনি কেবল একবারের জন্যই গানটি মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে গেয়েছিলেন। আর সেই প্রথম টেক বা ডেমো রেকর্ডিংটি এতটাই নিখুঁত ও আবেগঘন হয়েছিল যে, সুরকার হর্নারের চোখে পানি চলে এসেছিল। পরে এই ডেমো ট্র্যাকটিই চূড়ান্ত গানে ব্যবহার করা হয়।

ডেমো তৈরি এবার তো পরিচালকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সুরকার জেমস হর্নার গানটি রেকর্ড করার পরও পরিচালকের ভয়ে কিছুদিন লুকিয়ে রেখেছিলেন। সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থেকে একদিন জেমস ক্যামেরনের মন ভালো থাকা অবস্থায় তিনি গানটি শোনান। গানটি শোনার পর ক্যামেরন আর না করতে পারেননি। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এই গানটি সিনেমার আবেগ দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে শতভাগ সফল হবে। তারপরই সৃষ্টি হয় ইতিহাস।

তথ্যমতে, ‘টাইটানিক’ সিনেমা মুক্তির পর ‘মাই হার্ট উইল গো অন’ বিশ্বজুড়ে এক অভাবনীয় আলোড়ন সৃষ্টি করে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রেডিও হিট এবং সর্বাধিক বিক্রীত সিঙ্গেলগুলোর একটি। গানটি বিলবোর্ড চার্টের শীর্ষে জায়গা করে নেয় এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ কপিরও বেশি বিক্রি হয়। ১৯৯৮ সালে এটি ছিল বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রীত সিঙ্গেল। ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে গানটি সম্মিলিতভাবে প্রায় ৫ বিলিয়ন মানুষের কাছে রেডিওর মাধ্যমে পৌঁছায় এবং সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৭২ কোটি ৮০ লাখের বেশি বার স্ট্রিম করা হয়। এমনকি ১৯৯৮ সালের অস্কারে এটি ‘সেরা মৌলিক গান’ হিসেবে একাডেমি পুরস্কার জেতে। এ ছাড়া ১৯৯৯ সালে গানটি সেলিন ডিওনকে এনে দেয় সম্মানজনক একাধিক ‘গ্র্যামি’ পুরস্কার।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।