ডিআইইউ প্রতিনিধি :
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সাম্প্রতিক উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে আধুনিকতার নতুন ছোঁয়া। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণাকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে লাইব্রেরিটিতে আনা হয়েছে নানা ইতিবাচক পরিবর্তন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উন্নয়ন কার্যক্রম লাইব্রেরিকে শুধু একটি পাঠাগার নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকেন্দ্রে রূপান্তরিত করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লাইব্রেরির বইয়ের সংগ্রহে এসেছে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। আগে যেখানে বইয়ের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪১ হাজার, সেখানে নতুন করে ৩ হাজার ৫০০টি বই সংযোজনের মাধ্যমে বর্তমানে মোট বইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ হাজারে। বিষয়ভিত্তিক এই বিস্তৃত সংগ্রহে একাডেমিক পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি রেফারেন্স বই, গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকাশনার বইও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা এখন আরও সহজে প্রয়োজনীয় তথ্য ও রিসোর্স সংগ্রহ করতে পারছে।
লাইব্রেরির অবকাঠামোগত উন্নয়নেও আনা হয়েছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। শিক্ষার্থীদের জন্য বসার স্থান বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে একসঙ্গে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারছে। নতুনভাবে সাজানো পড়ার টেবিল, উন্নত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা এবং নীরব পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
শুধু বসার সুবিধাই নয়, লাইব্রেরির সার্বিক পরিবেশেও এসেছে আধুনিকতার ছাপ। পরিচ্ছন্নতা, সুশৃঙ্খল বই বিন্যাস এবং ব্যবহারবান্ধব সেবা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরি করছে। অনেক শিক্ষার্থীই মনে করছেন, এই পরিবর্তনের ফলে লাইব্রেরিতে সময় কাটানো এখন আরও আরামদায়ক ও ফলপ্রসূ হয়ে উঠেছে।
তবে সব বিভাগের বইয়ের সমান প্রাপ্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের বই এখনও পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এই বিভাগের প্রয়োজনীয় বই সংগ্রহে যুক্ত করা হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থীই প্রয়োজনীয় রিসোর্স থেকে বঞ্চিত না হয়।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মানোন্নয়নের অন্যতম প্রধান উপাদান। নতুন সংযোজন ও উন্নয়ন কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী হতে উৎসাহিত করবে এবং তাদের জ্ঞানচর্চার পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
সামগ্রিকভাবে, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এই উদ্যোগকে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও সমৃদ্ধ বইয়ের সংগ্রহের মাধ্যমে লাইব্রেরিটি ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী জ্ঞানভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
/কানিজ/ঋতু

