শহীদ কমিশনার ও সাবেক ছাত্রনেতা মরহুম ছায়েদূর রহমান নিউটনের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরের মনিকানন উচ্চবিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, মরহুম নিউটনের স্ত্রী ও সাবেক কমিশনার ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া এবং ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দোয়া মাহফিলে মরহুম ছায়েদূর রহমান নিউটনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। বক্তারা তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং মিরপুরের মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন।
ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি বলেন, “আজ আমার জীবনের অত্যন্ত বেদনাবিধুর একটি দিন। গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছি আমার স্বামী, মিরপুরের গণমানুষের নেতা মরহুম ছায়েদূর রহমান নিউটনকে। তিনি শুধু আমার পরিবারের অভিভাবক ছিলেন না, তিনি ছিলেন মিরপুরবাসীর আপনজন।”
তিনি বলেন, মানুষের সুখ-দুঃখ, অন্যায়-অবিচার ও এলাকার উন্নয়নের প্রশ্নে নিউটন সবসময় সাহসিকতার সঙ্গে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর আদর্শ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং জনসেবার মানসিকতা আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।
তিনি আরও বলেন, “তিনি শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর কর্ম, আদর্শ ও মানুষের ভালোবাসার মাধ্যমে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ।”
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল বলেন, “মরহুম ছায়েদূর রহমান নিউটনের মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তিনি ছিলেন মিরপুরের মাটি ও মানুষের নেতা, একজন সাহসী সংগঠক এবং জনসেবায় নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিত্ব।”
তিনি বলেন, নিউটনের কাছ থেকেই কর্মীরা শিখেছেন কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে হয় এবং এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হয়। তাঁর নেতৃত্ব, স্নেহ ও সাহস আজও নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগায়।
ছাত্রদল নেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, “কিছু মানুষ মৃত্যুর পর হারিয়ে যায় না, বরং মানুষের হৃদয়ে আরও বেশি জীবন্ত হয়ে ওঠে। শহীদ কমিশনার ছায়েদূর রহমান নিউটন ভাই তেমনই এক নাম।”
তিনি বলেন, ৯০-এর দশকে জাতীয়তাবাদী ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নিউটন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি এবং মিরপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন। অন্যায়, অত্যাচার, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় তিনি সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। ২৪ বছর আগে আজকের দিনে ধানমন্ডিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি নিহত হন।
চঞ্চল চৌধুরী আরও বলেন, নিউটনের জনপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে তাঁর মৃত্যুর পর মিরপুরবাসীর অনুরোধে তিন মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি কমিশনার নির্বাচনে অংশ নেন এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।
অনুষ্ঠান শেষে মরহুম ছায়েদূর রহমান নিউটনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
/কানিজ/আমানুল্লাহ

