একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কিনতে প্রকল্প নেয় কে এম নূরুল হুদা কমিশন। তখন দেড় লাখ যন্ত্র কেনা হলেও ওই নির্বাচনে মাত্র ছয়টি আসনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) এক বছরের ওয়ারেন্টি এবং পাঁচ বছরের সাপোর্ট সার্ভিসের কথা উল্লেখ থাকলেও এত যন্ত্র কোথায় রাখা হবে, তার উল্লেখ ছিল না। ইভিএম প্রকল্পের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। পরে আরও এক বছর বাড়ানো হয়। সেই সময়ও শেষ হয়েছে ২০২৪ সালের জুনে। কমিশনকে বুঝিয়ে দিয়ে দায়িত্ব ছেড়ে বিদায় নিয়েছে প্রকল্পের সব জনবল। এই ইভিএম ব্যবহার না করতে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ রয়েছে। পরে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) থেকেও ইভিএমের অংশ বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তারপরও অডিট আপত্তি, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) ওয়্যারহাউসের বকেয়া ভাড়াসহ নানান জটিলতায় এ যন্ত্র নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। সাবেকদের কেনা এই ‘মরা’ যন্ত্র নিয়ে এখন বিপদে আছে এ এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, এ এম এম নাসির উদ্দিন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইভিএমগুলো কী করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। এরই মধ্যে ইসি কর্মকর্তা, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগসহ (আইএমইডি) সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে ইভিএমের ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কাজ করতে গিয়ে কমিটিকে এ যন্ত্র নিষ্পত্তিতে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।এ বিষয়ে কথা হয় নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে। কালবেলাকে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তই বহাল আছে যে, আমরা নির্বাচনে আর ইভিএম ব্যবহার করব না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই কোটি কোটি টাকার ইভিএম দিয়ে আমরা কী করব। দুর্ভাগ্যবশত এগুলো স্টোরে পড়ে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। সচল-অচল যন্ত্রের বিষয়ে একটি প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি। প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল নিয়ে কাজ করে। কোনো রাজনৈতিক দল কি বলছে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট চাই? আমার দেশের জনগণ কি ইভিএম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে? ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতীতে যে রেকর্ড, তাতে কি আমরা আস্থা অর্জন করতে পেরেছি? সবকিছু মিলেই নির্বাচন কমিশনকে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হয়েছে যে, ইভিএম ব্যবহার করবে না।

