বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর গ্রুপ পর্ব শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গেছে নতুন হিসাব-নিকাশ। নাটক, বিতর্ক, অঘটন আর রোমাঞ্চে ভরা ৪৮ দলের প্রথম পর্ব শেষে এখন নির্ধারিত হয়েছে ৩২ দলের নকআউট লাইনআপ। আর সেই ড্র বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বড় একটি অংশের অভিমত—শিরোপা ধরে রাখার পথে সবচেয়ে অনুকূল অবস্থানে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসে নকআউটে উঠেছে লিওনেল মেসির দল। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দে। আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিস্ময়গুলোর একটি হলেও শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনাই পরিষ্কার ফেভারিট। এর পর শেষ ষোলোতে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া কিংবা মিশর। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড, আলজেরিয়া, কলম্বিয়া অথবা ঘানার যে কোনো একটি দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা। ফলে সেমিফাইনালের আগে পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে বড় কোনো পরাশক্তির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।অন্যদিকে ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষ দল শুরু থেকেই পড়েছে কঠিন পরীক্ষায়। জার্মানির সামনে প্যারাগুয়ে, এরপর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ স্পেন বা অস্ট্রিয়া। পর্তুগালকে শুরুতেই খেলতে হবে শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। সেই বাধা পেরোলেও সামনে অপেক্ষা করতে পারে স্পেন কিংবা জার্মানির মতো আরেক হেভিওয়েট। ফলে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর জন্য ফাইনালের পথ অনেক বেশি কণ্টকাকীর্ণ। ব্রাজিলের পথও খুব একটা সহজ নয়। প্রথম ম্যাচে জাপানের মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ দলের বিপক্ষে খেলতে হবে সেলেসাওদের। এরপর নেদারল্যান্ডস, মরক্কো, আইভরি কোস্ট কিংবা নরওয়ের মতো প্রতিপক্ষও অপেক্ষা করতে পারে। ইংল্যান্ডের ড্র-ও স্বস্তিদায়ক নয়। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রকে হারালেও পরের ধাপে বেলজিয়াম বা সেনেগালের মতো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এবারের বিশ্বকাপ এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে, কাগজের হিসাব মাঠে সব সময় মেলে না। দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিদায়, শেষ মুহূর্তে ইরানের বাদ পড়া, কেপ ভার্দের রূপকথার উত্থান, জার্মানি, ব্রাজিল, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারানো—সব মিলিয়ে প্রতিটি ম্যাচই যেন নতুন চমকের জন্ম দিয়েছে।
গ্রুপ পর্বে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন ভেন্যুতে দর্শকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। একের পর এক ম্যাচে স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ফিফার হিসাব অনুযায়ী, অধিকাংশ ম্যাচেই দর্শক উপস্থিতি ছিল ধারণক্ষমতার কাছাকাছি, যা ২০২৬ বিশ্বকাপকে এরই মধ্যে ইতিহাসের অন্যতম দর্শকনন্দিত আসরে পরিণত করেছে।তবে নকআউট পর্বের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়তো অন্য জায়গায়। মেসির আর্জেন্টিনা ও রোনালদোর পর্তুগাল ব্র্যাকেটের দুই ভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করায় তাদের মুখোমুখি হওয়ার একমাত্র সম্ভাবনা ফাইনাল। ফুটবল বিশ্বের কোটি সমর্থক তাই এখন সেই স্বপ্নের অপেক্ষায়। তবে তার আগে পাড়ি দিতে হবে চারটি কঠিন ধাপ। কারণ এই বিশ্বকাপ বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে—এখানে কোনো পথই পুরোপুরি সহজ নয়, আর কোনো স্বপ্নই অসম্ভব নয়।

