বিশেষ প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট এলাকার বাসিন্দা ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা কাইছার আলীকে ঘিরে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি ফেনী, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে লুটপাট ও কমিশন বাণিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে আলোচনার বিষয়— বদলির আদেশ পেলেও তাকে কার্যকরভাবে সরানো যাচ্ছে না।সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত কাইছার আলীর বিরুদ্ধে একে একে তিনবার বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই অদৃশ্য খুঁটির জোরে সেই আদেশ প্রত্যাহার হয়ে যায়। সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট খাদ্য মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ১৭৫ অনুযায়ী তাকে খুলনায় বদলি করা হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তিনি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের শক্তিশালী লবি ব্যবহার করে সেই আদেশও প্রত্যাহার করাতে সক্ষম হন।
অভিযোগ রয়েছে, কাইছার আলী নিজেকে প্রধান উপদেষ্টার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন। বদলি আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই তিনি এই পরিচয় ও লবিং ব্যবহার করে উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তকে পাল্টে দেন। ফলে তিনি বদলি হলেও আবার চট্টগ্রামে দায়িত্বে থেকে যান। এ কারণে অনেকেই বলছেন, “খাদ্য বিভাগের নিয়মকানুন সাধারণ কর্মকর্তাদের জন্য, কিন্তু কাইছার আলীর ক্ষেত্রে তার অদৃশ্য খুঁটির জোরই মূল নিয়ম।”দুর্নীতি ও অনিয়মের পাহাড়।কাইছার আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ।সাম্প্রতিক বোরো মৌসুমে ২৫ হাজার টন আতপ চাল সংগ্রহের সময় কেজি প্রতি ২ টাকা করে প্রায় ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া,কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, নাজিরহাট গুদামে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ,সিদ্ধ চালেও কেজি প্রতি কমিশন নেওয়া,বদলি বাণিজ্যে ৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ,ডিআরটিসি ও আইআরটিসি পরিবহন ঠিকাদার সমিতি থেকে মাসে সাড়ে ১০ লাখ টাকা এবং হ্যান্ডেলিং ঠিকাদারদের কাছ থেকে মাসে ৫ লাখ টাকা কমিশন নেওয়া।এসব অভিযোগ শুধু এক-দুই বছরের নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে। তবে রাজনৈতিক সুরক্ষা থাকায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।রাজনৈতিক প্রভাব ও বিদেশে সম্পদ।কাইছার আলী আওয়ামী লীগপন্থী পরিবার থেকে আসেন। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদকও ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করেই তিনি বারবার দুর্নীতি আড়াল করতে সক্ষম হয়েছেন।এছাড়া দুর্নীতির অর্থে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলেও জানা যায়। চিকিৎসার অজুহাতে প্রায়ই বিদেশ সফরে যান তিনি। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট মোড়ে ৫ তলা ভবন,খাগড়াছড়ি সদরে ২ একর জমি,ঢাকায় ৪ হাজার বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট,আমেরিকায় সুপার মার্কেট ও স্থাবর সম্পত্তি।প্রশ্ন উঠছে—কোন শক্তির জোরে বারবার বদলির আদেশ জারি হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না? সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও নীতিমালার সামনে একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত প্রভাব কেন এত বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে?খাদ্য বিভাগের অভ্যন্তরে অনেকে মনে করছেন, কাইছার আলীকে অপসারণ করা না গেলে সেক্টরের দুর্নীতি দমন কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। অভিযোগের বিষয়ে কাউসার আলীকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে সে রিসিভ করেনি।

