চরফ্যাশন(ভোলা)প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশনে বসতবাড়ির ২৬ শতাংশ জমি দীর্ঘ নয় বছর ধরে জোরপূর্বক দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে পরেশ চন্দ্র শীলের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া জমির রেইন্ট্রি ও মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি এবং নারকেল ও সুপারি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন জমির দাবিদার নিমাই চন্দ্র শীল (৭২)।
অভিযোগকারী নিমাই চন্দ্র শীল উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের আলীগাঁও ২ নম্বর ওয়ার্ডের নাপিতবাড়ির বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম রাধিকা মোহন শীল। অভিযুক্ত পরেশ চন্দ্র শীল (৭৪) একই এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম রশরাজ চন্দ্র শীল। নিমাই চন্দ্র শীলের অভিযোগ, ২০১৭ সাল থেকে তাঁর বসতবাড়ির ২৬ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন পরেশ চন্দ্র শীল। এ সময় বাগানে থাকা মেহগনি ও রেইনট্রি গাছ কেটে প্রায় দুই লাখ টাকায় বিক্রি করেন পরেশ। একই সঙ্গে তাঁর রোপণ করা নারকেল ও সুপারি বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নিমাই চন্দ্র শীল জানান, ২০১৭ সালে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা দলিলের বিরুদ্ধে চরফ্যাশন আদালতে মামলা করেন তিনি। নিমাই চন্দ্র শীল আরও অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান ভুক্তভোগী নিমাই।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জমিটি পরেস চন্দ্র ভোগদখল করছে। আদালতের নির্দেশে ভোলার সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সার্চারের দেয়া তথ্য সূত্রে ভোলা রেকর্ড অফিসের চরফ্যাশন সাবরেজিস্ট্রার অফিস ৩১৪০ নং দলিলটি ১৯৬২ ইং সনের দাতা রাধিকা মোহন শীল পিতা ইশ্বর চন্দ শীল ও গ্রহীতা পরেশ চন্দ্র শীল পিতা রশরাজ শীল আলীগাঁ উল্লেখিত কোনো দলিল নেই বলে সার্চার মো. ইউনুছের দেয়া রিপোর্ট সূত্রে জানা যায়।
জাল দলিল সৃজনের অভিযোগ অস্বীকার করে পরেশ চন্দ্র শীল বলেন, জমিটি তাঁর স্ত্রীর নামে এবং সে কারণেই তিনি জমিটি দখলে রেখেছেন। তবে জাল দলিল তৈরি ও নামজারির সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, নিমাই চন্দ্র শীলের জমি তাঁর জমির সামনের অংশে অবস্থিত।নিমাইয়ের এক ইঞ্চি জমিও তিনি ভোগদখল করছেন না।
/কানিজ/ফাহিম

