মা-বাবার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক পারিবারিক নানা বিতর্ক নিয়ে আপাতত প্রকাশ্যে আর কোনো মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তরুণ বক্তা হাফেজ জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বিষয় নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা ও পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ায় সময় ও সম্মান—দুটোই নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এই বিষয়ে আপাতত ইতি টানার কথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি তার এই অবস্থান পরিষ্কার করেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আপাতত থেমে গেলাম। ইনশাআল্লাহ, এ বিষয়ে আর কথা বলব না। তবে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলে হয়তো বলতে হবে। বারবার পোস্ট ও আলোচনা সময় এবং সম্মান—দুটোই নষ্ট করে। সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ পাক যেন সকল ফিতনা ও ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন। আমিন।’
সম্প্রতি তাশরীফের পারিবারিক টানাপোড়েন ঘিরে তার মা ও বাবার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য অনলাইনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাশরীফের বাবা দাবি করেছিলেন, তিনি মারাত্মক অসুস্থ হলেও ছেলে তার কোনো খোঁজখবর নেন না এবং চিকিৎসার জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা দেন না। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে অন্যের কাছে সাহায্য চেয়ে কোনোমতে সুস্থ হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন যে, ছেলে মানুষের পেছনে বিপুল অর্থ খরচ করলেও নিজের অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ ও চিকিৎসার দিকে ফিরেও তাকান না।
বাবার তোলা এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে ছেলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তাশরীফের মা। মঙ্গলবার একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তাশরীফের বাবা জীবনে ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ে করেছেন। ছেলের সাফল্যের প্রতি বাবার বিদ্বেষ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাশরীফ প্রতিষ্ঠা পাওয়ায় তার প্রতি বাবার ক্ষোভ জন্মেছে এবং অন্যের প্ররোচনায় পড়ে তিনি ছেলের বিরুদ্ধে অসত্য বক্তব্য ছড়াচ্ছেন। তাশরীফের বাবার তোলা আর্থিক অবহেলার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তার মা।
উল্লেখ্য, পারিবারিক এই সাম্প্রতিক বিরোধের আগেও একটি সংবেদনশীল ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছিলেন তাশরীফ। মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ এবং এর জেরে প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানোর ঘটনা নিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। সে সময় তিনি পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে, শিক্ষক অনৈতিক ইচ্ছা প্রকাশ করলেও চূড়ান্ত অপরাধ ঘটাননি। একই সঙ্গে একজনের ব্যক্তিগত অপরাধের জের ধরে পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা বা ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।