etcnews
ঢাকাTuesday , 27 October 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেন্টমার্টিনে রাতযাপন নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’, যা জানাল প্রশাসন

etcnews
October 27, 2026 11:48 am
Link Copied!

টানা নয় মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপ। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপটি ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। এবার প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যাওয়ার অনুমতি থাকলেও দ্বীপে রাতযাপনের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।হোটেল-রিসোর্ট ও পর্যটকবাহী জাহাজের মালিকেরা পুরো পর্যটন মৌসুমে রাতযাপনের সুযোগ দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অন্তত নভেম্বর মাসে রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার কক্সবাজারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পর্যটকরা কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত জাহাজে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। প্রত্যেক পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা দিতে হবে। তবে নতুন নির্দেশনায় রাতযাপনের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের বিষয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি। আগের প্রজ্ঞাপনের শর্তগুলো বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার কক্সবাজারে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে পর্যটন করপোরেশন ও ট্যুরিজম বোর্ডের চেয়ারম্যান, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জাহাজমালিক, হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক এবং ট্যুর অপারেটররা উপস্থিত থাকবেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে রাতযাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, সোমবার দুপুর পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচলের কোনো আবেদন জমা পড়েনি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজকে পর্যটক নিয়ে দ্বীপে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হবে না।

রাতযাপন নিয়ে ভিন্নমত

হোটেল মালিকদের আশা, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পুরো পর্যটন মৌসুমেই দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ থাকবে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে আগের বিধিনিষেধ বহাল থাকলে নভেম্বর মাসে সকালে দ্বীপে গিয়ে বিকেলে ফিরে আসতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ১ ডিসেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রাতযাপনের সুযোগ মিলতে পারে।

কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, রোববারের প্রজ্ঞাপনে রাতযাপনের বিষয়ে কিছু উল্লেখ না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পুরো সময় রাতযাপনের সুযোগ না থাকলে ব্যবসায়ীরা হতাশ হবেন। তাদের প্রত্যাশা, পুরো পর্যটন মৌসুমেই দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হবে।

জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলামও আশা করছেন, পর্যটকেরা পুরো সময় দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ পাবেন। সে অনুযায়ী জাহাজ চলাচল ও টিকিট বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত বছর কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন পথে নয়টি জাহাজ চলাচল করেছিল। এবার জাহাজের সংখ্যা বাড়তে পারে।

তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটকের উপস্থিতি দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ ছেঁড়াদিয়ায় পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রাখা, সৈকতের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করা এবং নভেম্বর মাসে রাতযাপনের অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার অঞ্চলের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, নতুন নির্দেশনায় রাতযাপনের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

পর্যটন মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্যে আশার আলো

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, নয় মাস বন্ধ থাকার পর দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত শুরুর খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছ্বসিত। এরই মধ্যে দ্বীপের ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক এলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা হবে বলে আশা করছেন তারা।

তবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। এ সময় পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হোটেল মালিকরা। এমনটি হলে পর্যটকরা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ১৫ দিন বেশি দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ পেতে পারেন।

গত বছর ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত হলেও জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ওই মাসে পর্যটকেরা সেখানে যেতে পারেননি। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি- এই দুই মাস পর্যটকেরা রাতযাপনের সুযোগ পেয়েছিলেন। তখন প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়া ও রাতযাপনের অনুমতি পেয়েছিলেন।

মানতে হবে পরিবেশ সংরক্ষণের ১২ বিধিনিষেধ

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, টানা নয় মাস পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকায় দ্বীপের পরিবেশ ও প্রতিবেশের উন্নতি হয়েছে। এবার পর্যটকদের সরকার নির্ধারিত ১২টি বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে চলাচল করতে পারবে না। পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।

দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরচালিত যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ। পাশাপাশি পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। পলিথিন ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বন্ধে নজরদারি থাকবে। পর্যটকরা বিধিনিষেধ মানছেন কি না, তা তদারক করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কক্সবাজার এবং সেন্টমার্টিনে পৃথক দুটি দল কাজ করবে।

উল্লেখ্য, পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। পরে ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়।

সূত্র: প্রথম আলো

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।