etcnews
ঢাকাMonday , 26 October 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি

জাতিসংঘে পাল্টাপাল্টি চিঠি দিয়েছে দুই কোরিয়া

etcnews
October 26, 2026 2:44 pm
Link Copied!

উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বেড়েছে। সীমান্তের কাছে উত্তর কোরিয়ার একটি স্বচালিত ১২২ মিলিমিটার কামান দেখা গেছে। একই সময়ে সেপ্টেম্বরের স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাল্টাপাল্টি চিঠি দিয়েছে দুই দেশ।দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সীমান্তের কাছে কামানটি দেখা যায়। উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের কামান প্রকাশ্যে মোতায়েনের ঘটনা বিরল।দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুল বলেন, উত্তর কোরিয়ার স্বচালিত কামান এভাবে প্রকাশ্যে দেখানো অস্বাভাবিক। তার মতে, এর মাধ্যমে পিয়ংইয়ং বোঝাতে চাইছে, সংলাপ বা আলোচনার বদলে শক্তি প্রয়োগ করে সীমান্তনীতি কার্যকর করতে তারা প্রস্তুত। একই সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়িয়ে অনিচ্ছাকৃত সংঘাত এড়াতে দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্কবার্তাও দেওয়া হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর তথ্য অনুযায়ী, রোববার জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে দেশটি অভিযোগ করেছে, সেপ্টেম্বরের স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনাকে ব্যবহার করে দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত নির্মাণকাজকে সামরিক অনুপ্রবেশ হিসেবে তুলে ধরছে।চিঠিতে উত্তর কোরিয়া সতর্ক করে বলেছে, তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হলে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর পরিণতির জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকেই সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিয়ংইয়ং।

এর আগে গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করে, ২১ সেপ্টেম্বর দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) বিস্ফোরিত স্থলমাইনটি উত্তর কোরিয়ার সেনারা পুঁতেছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, এ ঘটনা কোরীয় যুদ্ধের যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।

ডিএমজেড তদারকির দায়িত্বে থাকা জাতিসংঘ কমান্ডও বলেছে, সীমান্তের দক্ষিণ পাশে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা একটি মাইন যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তবে পিয়ংইয়ং এ ঘটনায় দায় অস্বীকার করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সোমবার বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার চিঠিতে আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সীমান্ত চিহ্নিত করার কাজকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেও একে দেখছে সিউল। কামান মোতায়েনের বিষয়ে মন্ত্রণালয় আলাদা কোনো মন্তব্য করেনি। উত্তেজনা কমাতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

উত্তর কোরিয়ার চিঠিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এটি জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন। অন্যদিকে সিউল বলেছে, উত্তর কোরিয়ার সেনারা সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করলে তাদের ফিরে যেতে সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়।

ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী শহর কিমপোর একটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থেকে তোলা ছবিতে কামানটির পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সামরিক মহড়াও দেখা গেছে। মহড়াটি হয়েছে সীমান্তের কাছের কায়েপুং এলাকায়, পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থেকে যার দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার।

২০১৫ সালেও উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা স্থলমাইনে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর সিউল সীমান্তজুড়ে উত্তর কোরিয়াবিরোধী লাউডস্পিকারে প্রচার শুরু করলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরে উত্তর কোরিয়া দুঃখ প্রকাশ করে এবং দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সমঝোতার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

সূত্র: রয়টার্স

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।