etcnews
ঢাকাMonday , 26 October 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি

জেন-জি কেন বিদ্রোহ করছে

etcnews
October 26, 2026 11:31 am
Link Copied!

বর্তমানে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভের ঢেউ চলছে। এসব আন্দোলনের বেশ কিছুকে ‘জেন-জি বিক্ষোভ’ বলা হচ্ছে। ১৩ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণরা এসব বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের প্রজন্মকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে, এমন নানা সমস্যার প্রতিবাদে তারা রাজপথে নেমেছেন। ফ্রান্সে কয়েক সপ্তাহ আগে বিক্ষোভ শুরু হয়। দেশটির স্কুলগুলোয় অর্থায়নের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার পরিস্থিতিও ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। এসব সমস্যার প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন আরও জোরালো হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে সারা দেশে বিক্ষোভে পাঁচ লাখ থেকে আট লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে ‘ককরোচ আন্দোলন’। গত সপ্তাহে এ আন্দোলনের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ বাড়তে থাকায় এ গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।স্পেনে আবাসন ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থা এবং উচ্ছেদের হাত থেকে পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ আইন নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রথমে ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকালকে জোর করে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এরপর পার্লামেন্টে উচ্ছেদ থেকে পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার বহুল জনপ্রিয় একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। উচ্ছেদের দুই সপ্তাহ পর মারিকারমেন মারা যান।প্রতিটি দেশের পরিস্থিতি আলাদা। তবে চলমান বিক্ষোভের কেন্দ্রীয় বিষয় হলো বৈষম্য নিয়ে মানুষের ক্ষোভ। এই বৈষম্যের দুটি দিক রয়েছে। একটি শ্রেণিগত, অন্যটি প্রজন্মগত। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর থেকে ইউরোপজুড়ে বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আয়বৈষম্য বাড়ছে। সম্পদের বৈষম্যও দ্রুত গভীর হচ্ছে। ইউরোপের একসময় গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত কল্যাণ রাষ্ট্রগুলোর অবক্ষয় মানুষের জীবনে এ সংকটের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একসময় সবার জন্য উন্নত মানের সরকারি সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল ইউরোপের কল্যাণ রাষ্ট্রগুলোর। এর মাধ্যমে প্রত্যেকের জন্য জীবনযাপনের একটি ন্যূনতম মান নিশ্চিত করার কথা ছিল। একই সঙ্গে এমন একটি মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ছিল, যেখানে প্রত্যেকেই সাফল্য অর্জনের সুযোগ পাবেন। কিন্তু বছরের পর বছর কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নীতির কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক পরিচর্যা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা কমে গেছে। রাষ্ট্র ধীরে ধীরে এসব দায়িত্ব থেকে সরে আসছে। ফলে আয় ও সম্পদের বৈষম্য আরও বাড়ছে। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা অর্থ ব্যয় করে উন্নত সেবা পাচ্ছেন। কিন্তু অনেকের পক্ষেই সেই সুযোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের প্রভাব তরুণরা প্রায়ই আরও তীব্রভাবে অনুভব করেন। তাদের জীবনে যুক্ত হয়েছে আরও নানা সংকট। একের পর এক ক্ষেত্রে তারা শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এর ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও হতাশাজনক হয়ে উঠছে। তাদের সামনে থাকা সুযোগও বাবা-মা ও দাদা-দাদির প্রজন্মের তুলনায় অনেক কম।

পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে শিক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক পিসা (PISA) পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতা ও গণিতের পারদর্শিতায় যে বড় ধরনের অবনতি দেখা গেছে, তার পেছনে এ সংকটের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে বলে সন্দেহ নেই। এই অবনতির একটি প্রচলিত ব্যাখ্যা হলো, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। এর ফলে স্কুলে অনুপস্থিতিও বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও একটি প্রভাবক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। শিক্ষাগত অর্জন কমে যাওয়ার আরেকটি কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার। এটিও শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার আরেকটি দৃষ্টান্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআই, উভয়ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ধীরগতিতে এগিয়েছে। প্রযুক্তি খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবল তদবিরও এসব উদ্যোগের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ও তরুণরা এআই বিপ্লবের প্রভাব অনুভব করছেন। কর্মসংস্থানে এআইয়ের প্রভাব এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে একটি বিষয় এরই মধ্যে স্পষ্ট। বিশেষ করে, চাকরির প্রাথমিক পর্যায়ের অনেক কাজ ক্রমেই যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো আবাসন। এখানেও তরুণরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা তাদের আয়ের অনেক বেশি অংশ বাড়ি ভাড়া দিতে ব্যয় করছেন। অতীতের কোনো প্রজন্মকে এভাবে আয়ের এত বড় অংশ ভাড়ার পেছনে ব্যয় করতে হয়নি। এটিও শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতারই ফল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু সংকট। শাসনব্যবস্থার সব ব্যর্থতার মধ্যে এটিকেই সম্ভবত সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বলা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করে দেখিয়েছে, ২০২০ সালে জন্ম নেওয়া মানুষের জীবন তাদের বাবা-মা ও দাদা-দাদির প্রজন্মের তুলনায় কতটা অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

বৈষম্য কম এমন সমাজ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় অনেক বেশি সক্ষম হবে। কারণ, এসব সমাজে মানুষ সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। কিন্তু বর্তমানে আমরা ক্রমবর্ধমান বৈষম্যপূর্ণ সমাজের বিস্তার দেখছি। এসব সমাজে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার দায় ব্যক্তি ও পরিবারের ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হবে। অন্য কথায়, শাসনব্যবস্থার একাধিক ব্যর্থতা এবং রাষ্ট্রের সক্ষমতা ক্রমে কমে যাওয়ার ফলে তরুণদের মধ্যে বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্যারিস, নয়াদিল্লি, রোম ও মাদ্রিদের রাজপথে যে ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে এসব সংকট।

অনুমিতভাবেই, সরকারগুলোর প্রধান প্রতিক্রিয়া হয়ে উঠেছে দমনপীড়ন। বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং আন্দোলন দমনের যে প্রবণতা চলছে, এটি তারই অংশ। প্রতিবাদবিরোধী আইন প্রণয়ন, গ্রেপ্তার কিংবা পুলিশের সহিংসতা, নানা উপায়ে দমনপীড়ন বাড়ছে। কখনো কখনো এর ফলে প্রতিবাদী আন্দোলন থেমে যায়। আবার কখনো দমনপীড়ন আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে। এখন পর্যন্ত ফ্রান্স ও ভারতের ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে প্রয়োজন তরুণদের রাজপথে নামতে বাধ্য করছে, এমন বৈষম্য ও শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতাগুলো দূর করার আন্তরিক উদ্যোগ। এসব সমস্যার সমাধান না হলে রাজনৈতিক সংকট অনিবার্য হয়ে উঠবে।

লেখক: ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক জননীতি ও সামাজিক নীতিবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রভাষক। প্রতিবাদী আন্দোলন ও দমনপীড়ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। আল-জাজিরায় প্রকাশিত নিবন্ধটি ভাষান্তর করেছেন আবিদ আজাদ।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।