অলি রহমান,বাগেরহাট প্রতিনিধি:
সবুজের গহিনে যখন রাত নামে, তখনও সুন্দরবনের বুক চিরে চলে নিরাপত্তার অভিযান। দস্যুদের তৎপরতা নির্মূলে এবার সেই অরণ্যেই হানা দিয়েছে কোস্ট গার্ড। বাগেরহাটের মোংলা থানার শেলা নদী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছে দস্যুদলের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্টাফ অফিসার (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শওকত আহমেদ।
তিনি জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূলের লক্ষ্যে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেলা নদী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় একটি দস্যুদল ডাকাতির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে বলে খবর পায় কোস্ট গার্ড। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি চৌকস দল সেখানে অভিযান শুরু করে।
কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারের সুযোগে সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে মিলিয়ে যায় দস্যুদলের সদস্যরা। তবে পালানোর সময় ঘটনাস্থলে ফেলে যায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ৬টি একনলা বন্দুক, ৩টি এয়ারগান, একটি পাইপগানের ট্রিগার এবং ১৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ।
অভিযানে কাউকে আটক বা শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও উদ্ধার হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ দস্যুদের তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে এগুলো মোংলা থানায় হস্তান্তর করা হবে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শওকত আহমেদ বলেন, সুন্দরবনের বুক থেকে বনদস্যুদের তৎপরতা বন্ধ এবং উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

