পবিপ্রবি প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্বের জেরে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এম. কেরামত আলী হলে ভাঙচুরের পর দুপুরে ক্যাম্পাসের প্যারিস রোডে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শিব্বিল আহমেদ ও একই অনুষদের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। শিব্বিলের দেওয়া ‘সিনিয়র না হলে মারতাম’ ধরনের একটি পোস্টকে ব্যক্তিগত হুমকি হিসেবে নেন সিয়াম। এর জেরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শিব্বিলকে ডেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিব্বিলের অভিযোগ, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সিয়াম এম. কেরামত আলী হলের বি ব্লকের ১০৯ নম্বর কক্ষে গিয়ে লাঠি দিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এ সময় জানালার কাচ ভেঙে কক্ষে থাকা আসিফ নামের এক শিক্ষার্থী আহত হন। পাশাপাশি একটি ল্যাপটপ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তিনি দাবি করেন।
শিব্বিল আহমেদ বলেন, “আজ ভোর সাড়ে ৫টায় কেরামত আলী হলের বি ব্লকের ১০৯ নম্বর রুমে ২০২২-২৩ সেশনের সিয়াম লাঠি দিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেন। জানালার কাচ ভেঙে আমার ব্যাচমেট আসিফ আহত হয়েছেন। একটি ল্যাপটপও নষ্ট হয়েছে।”
এ ঘটনার জের ধরে বুধবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সিয়ামের বন্ধু ইফতিকে সেখানে আটকে রেখে সিয়াম ও পলক আহমেদকে ঘটনাস্থলে আসতে বাধ্য করা হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সিয়াম আহমেদ বলেন, “আমার বন্ধু ইফতিকে প্যারিস রোডে আটকে রেখে আমাকে ও পলককে সেখানে যেতে বাধ্য করা হয়। সেখানে শিব্বিলসহ জিয়াউর রহমান হলের ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ সেশনের কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিল। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে।”
ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে সংঘর্ষ আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, “আমরা দুই পক্ষের কাছ থেকেই বিষয়টি জেনেছি। খুব দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”
/কানিজ/মুশতাক

