ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন না করলে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আপাতত কোনো দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের বৈশ্বিক আর্থিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র ‘অর্থনৈতিক আক্রমণ’ শুরু করেছে।এটিকে তিনি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে কোন কোন দেশকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে বা কখন তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।
বেসেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর সামনে সম্পর্ক ছিন্ন করার সুযোগ রয়েছে। তবে যারা ইরানের তেল বিক্রির অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সহায়তা করবে, তাদেরও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে।এদিন যুক্তরাষ্ট্র ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। তবে ইরানের তেল বাণিজ্যে সহায়তার অভিযোগ থাকা চীনা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই তালিকায় রাখা হয়নি।ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীন। দেশটির সঙ্গে ইরানের তেল বাণিজ্য বন্ধে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে বিরত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বেসেন্ট অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, কোনো দেশই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে নয়। ইরানি তেলকে অর্থে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক সহায়তা করলে তাদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
ইরানের অর্থনীতির পাঁচটি খাতে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খাতগুলো হলো ডিজিটাল সম্পদ, সোনা, প্রযুক্তি, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন।
এদিকে চীনা ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্ক আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের কথা রয়েছে। এর আগে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে।
বেসেন্ট আরও জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসতে পারে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
সূত্র: রয়টার্স

