বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ায় উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে তার দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেছে দেশটি।বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনের এক বার্তায় বলা হয়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছে। গত ২১ আগস্ট তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।অভিনন্দন বার্তায় অস্ট্রেলিয়া জানায়, নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছে তারা।
অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস পাঁচ দশকেরও বেশি পুরোনো। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর অস্ট্রেলিয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় এবং ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকায় স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন প্রতিষ্ঠা করে। দুই দেশ ২০২২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করে।বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক কূটনীতির পাশাপাশি বাণিজ্য, শিক্ষা, উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগে বিস্তৃত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার। একই বছর অস্ট্রেলিয়ায় ২৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছেন এবং ২০২৪ সালের হিসাবে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৭৩ হাজারের বেশি।
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবিক কার্যক্রমেও অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব রয়েছে। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া সহযোগিতা করে আসছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহায়তার প্রাক্কলন ৩১ দশমিক ৮ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার।
নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

