কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে স্থানীয় এক হকার ও পুলিশের দুই সদস্যের বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মারধরের অভিযোগে তিনজন আইনজীবী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনার পর দুই পুলিশ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আইনজীবীদের অভিযোগ, কক্সবাজার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গিয়ে দুপুর আনুমানিক ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার দিকে প্রাসাদ প্যারাডাইসের সামনে সমুদ্রসৈকতে তারা ফুটবল খেলছিলেন। এ সময় হকার আনোয়ার তার খেলনার দোকানটি আইনজীবীদের খেলার জায়গার মাঝামাঝি স্থানে বসিয়ে দেন। এতে খেলায় বিঘ্ন সৃষ্টি হলে আইনজীবীরা তাকে দোকানটি কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
আইনজীবীদের দাবি, এ ঘটনায় আনোয়ার ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে আইনজীবীদের ওপর চড়াও হন। পরে আনোয়ার এএসআই আরজু ও কনস্টেবল শাহাদাৎকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আনোয়ার ও তার সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে আইনজীবীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ফুটবলটি নিয়ে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অন্যান্য পর্যটকরা এর প্রতিবাদ করেন। তাদের ভাষ্য, ওই সময় আশপাশে আরও অনেক পর্যটক ফুটবল খেলছিলেন। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের ফুটবলটি নিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আইনজীবীরা যেখানে খেলছিলেন, পুলিশ সদস্যরা সেখানেই হকার আনোয়ারের দোকানটি স্থাপন করে দিতে সহযোগিতা করেন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে থাকা অন্যান্য পর্যটকরাও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এদিকে, মারধরের ঘটনায় আহত তিন আইনজীবীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এএসআই আরজু, কনস্টেবল শাহাদাৎ, হকার আনোয়ারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
আইনজীবীদের অভিযোগ, স্থানীয় হকারদের প্রভাব বা প্ররোচনায় পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে পর্যটকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত দের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

