বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী তমা মির্জা সম্প্রতি একটি বেসরকারি ব্যাংকে যোগ দিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তার এই নতুন পেশাগত পরিচয় প্রকাশ্যে আসতেই আলোচনার ঝড় ওঠে বিনোদন অঙ্গনে। সুড়ঙ্গ’ ও ‘দাগি’ সিনেমার এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর সিদ্ধান্ত অনেকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর সরাসরি বিরোধিতা করে বসেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। আর তাতেই ভার্চুয়াল জগতে শুরু হয় দুই তারকার তীব্র বাগযুদ্ধ।সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে জয় মন্তব্য করেন, তমার মতো গুণী অভিনেত্রীর ব্যাংকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হওয়া মানায়, তবে সেখানে চাকরি করা নয়। খবরটি সত্যি হলে তিনি মর্মাহত বলে জানান।এ সময় কিছুটা কটাক্ষ করে জয় আরও লেখেন, তমাকে ব্যাংকে চাকরি করতে দেখলে অন্য নায়িকারাও হয়তো গার্মেন্টসে চাকরি নেবেন, যা নতুন প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা দেবে।
জয়ের এমন মন্তব্যে চুপ থাকেননি তমা মির্জাও। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কড়া জবাবে তিনি জানান, আইন বিষয়ের স্নাতক হিসেবে ও চাকরিজীবী পরিবারের সন্তান হিসেবে ১৬ বছর অভিনয়ের পাশাপাশি অন্য পেশা বেছে নেওয়া তার ব্যক্তিগত অধিকার। এটি ব্যাংক বা অভিনয়—কোনো পেশাকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।তমা মির্জা স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি এখন অভিনেত্রীর পাশাপাশি একজন ব্যাংকার এবং এটা নিয়ে আমি গর্বিত।’ একই সঙ্গে জয়ের মতো শিক্ষিত ও প্রগতিশীল মানুষের কাছে এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করেন তিনি।জয়ের কনটেন্ট নির্মাণ ও চলচ্চিত্রবিষয়ক বিভিন্ন কাজের প্রসঙ্গ টেনে তমা বলেন, তিনিও চাইলে অভিনয়ের বাইরে অন্য কাজ না করার কথা বলতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করবেন না, কারণ তিনি নিজের পাশাপাশি সবার পেশাকেই সম্মান করেন।
তমার বলিষ্ঠ প্রতিবাদে শাহরিয়ার নাজিম জয়ের সুর কিছুটা নরম হয়। পাল্টা মন্তব্যে তমার যুক্তি মেনে নিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান তিনি। অভিনেত্রীকে একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সফল উল্লেখ করে খবরের ভুল উপস্থাপনার কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল দাবি করে জয় পুরো বিষয়টিকে বেশ উপভোগের ভঙ্গিতে শেষ করেন।
তমাকে উদ্দেশ্য করে সবশেষে জয় বলেন, ‘ফেসবুকের এই যুদ্ধ মজার আছে কিন্তু তমা। চালিয়ে যাও, আমিও আছি।’

